পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ২০২৩ সালের মে মাস থেকে চলতে থাকা রক্তাক্ত জাতিগত সংঘাত ও অরাজকতার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠল মণিপুরের রাজধানী ইমফল। আদিবাসী ও ভূমিপুত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিশাল প্রতিবাদী মহামিছিল করল মেতেই এবং নাগা নাগরিক সংগঠনগুলি। ইমফলের রাজপথে নামা হাজার হাজার বিক্ষোভকারী মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেনের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করার পাশাপাশি কেডি-জো উগ্রপন্থী সংগঠনগুলির সাথে কেন্দ্রের ‘সাসপেনশন অফ অপারেশনস’ চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের দাবি তুলেছেন।

সম্প্রতি উগ্রপন্থীদের অতর্কিত হামলায় ১৪ জন মেতেই যুবকের ওপর আক্রমণ এবং ৩ জনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে এই ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে 'কোর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টিগ্রিটি'-র আহ্বানে এবং নাগাদের শীর্ষ সংগঠন 'ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল'-এর পূর্ণ সমর্থনে এই ঐতিহাসিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

শনিবার ইমফল পশ্চিম জেলার টিডিম গ্রাউন্ড থেকে মহামিছিলটি শুরু হয়ে থাও গ্রাউন্ডের দিকে অগ্রসর হয়। তবে রাজভবন, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ও বিজেপি কার্যালয় থেকে মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে কিসামপাট জংশনে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং ব্যারিকেড তৈরি করে মিছিলটি আটকে দেয় প্রশাসন। মিছিলে অংশ নেওয়া হাজার হাজার মানুষের হাতে ছিল "মণিপুর বাঁচাও", "শান্তি ও ন্যায়বিচার চাই" এবং "সোও চুক্তি বাতিল করো" লেখা পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড। কোকোমি-র আহ্বায়ক ওয়াই ধীরেন বলেন, "রাজ্যের ভূমিপুত্রদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করতে এই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাই আমরা এই ব্যর্থ সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি।

এটি একটি ঐতিহাসিক গণমিছিল, যেখানে সাধারণ মানুষ আদিবাসী বিরোধী সরকারি নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিবাদ নথিভুক্ত করছেন।"

আন্দোলনে যোগ দেওয়া এক বিক্ষোভকারী বলেন, "বিগত সাড়ে তিন বছর ধরে মণিপুরে চরম সংকট চলছে। এবার নাগা উপজাতি, মেতেই এবং রাজ্যের ভূমিপুত্ররা একসাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের এই জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে। আমরা অনেক রক্ত, প্রাণ এবং সম্পত্তি হারিয়েছি। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং নারকো-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতেই হবে।"