দিল্লির রামলীলা ময়দানে দাঁড়িয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাহুল বলেন, শুধু পদত্যাগ করলেই হবে না, এই অভিযোগের জন্য জেলে যেতে হবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। তাঁর বক্তব্য, “আমরা অহিংসাবাদী। নরেন্দ্র মোদী কিংবা অমিত শাহ আমাদের শত্রু নন।

কিন্তু মনে রাখতে হবে, তুমি যেই হও, সংবিধানের ঊর্ধ্বে কেউ নও।” রাহুলের এই মন্তব্যের পরেই পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি।

রবিবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ডাকা সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন রাহুল। তাঁর দাবি, লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ দেশের প্রতি সাতজন ভোটারের মধ্যে একজন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাহুলের দাবি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র তিন শতাংশ। সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি এনডিএ-র জয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপির মাধ্যমেই বিজেপি ক্ষমতায় ফিরেছে।

শুধু লোকসভা নির্বাচন নয়, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ ও মধ্যপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনেও ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং ইভিএম নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর দাবি, এই সমস্ত ঘটনার পিছনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা রয়েছে।

রামলীলা ময়দান থেকে রাহুলের হুঁশিয়ারি, “আমি আজ বলে যাচ্ছি, জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তফা দিতেই হবে।” এরপরই তিনি বলেন, “ভোট চুরি কোনও সাধারণ চুরি নয়। এটা ভারতের প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি। একেই বলে রাষ্ট্রদ্রোহিতা।” জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে তাঁর আরও দাবি, এই অনিয়মের জন্য একদিন তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে এবং জেলে যেতে হবে।

রাহুলের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদে না থাকলে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এভাবেই একের পর এক অভিযোগ তুলে সরব হন বিরোধী দলনেতা।