পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পাঞ্জাবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই বড়সড় ধাক্কা খেল আম আদমি পার্টি (আপ)। রবিবার দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করার পর সোমবারই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন ভগবন্ত মান সরকারের এক প্রাক্তন মন্ত্রী-সহ আপের তিন বিদ্রোহী বিধায়ক। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রশানা করে তাঁদের দাবি, পাঞ্জাবেও এবার ‘উত্তরপ্রদেশ মডেল’ প্রয়োজন।
এই তিন বিধায়ক হলেন পাটিয়ালা জেলার সনৌর কেন্দ্রের হরমিত সিং পাঠানমাজরা, সামানা কেন্দ্রের চেতন সিং জৌরামাজরা এবং অমৃতসর উত্তর কেন্দ্রের কুঁওর বিজয় প্রতাপ সিং।

দলবিরোধী কাজের অভিযোগে সম্প্রতি হরমিত এবং চেতনকে সাসপেন্ড করেছিল আপ। রবিবার তাঁরা দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। অন্যদিকে, প্রাক্তন আইপিএস অফিসার কুঁওর বিজয় প্রতাপ সিংকে ২০২৫ সালেই পাঁচ বছরের জন্য সাসপেন্ড করেছিল দল। সোমবার বিধানসভার স্পিকারের কাছে নিজের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর, এদিন দুপুরে দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাঞ্জাব বিজেপির ইনচার্জ সতীশ পুনিয়া, কো-ইনচার্জ বীরেন্দ্র সচদেবা-সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
বিজেপিতে যোগ দিয়েই ভগবন্ত মান সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিন নেতাই। তাঁদের অভিযোগ, আপ সরকার রাজ্যে মাদক সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে, রাজ্যের উপর ঋণের বোঝা বাড়িয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটিয়েছে। প্রাক্তন আইপিএস কুঁওর বিজয় প্রতাপ সিং বলেন, “দুর্বৃত্তরা এই সরকারের অংশ হয়ে উঠছে।
পাঞ্জাব এখন নিজের অস্তিত্বের লড়াই লড়ছে। আমার মনে হয়, একমাত্র বিজেপিই এখানে শান্তি ফেরাতে পারে। উত্তরপ্রদেশে যেমন মাফিয়ারাজ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, পাঞ্জাবেও সেই মডেল প্রয়োজন।”
উল্লেখ্য, আগামী বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগেই শনিবার রাজ্যের ১১৭টি আসনের মধ্যে ৪০টিতে প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে আপ। আর তার ঠিক পরপরই দলের এই ভাঙন রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।