‘চলো দিল্লি’ ডাক দিয়ে রামলীলা ময়দানে আয়োজিত ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ সভায় এক মঞ্চে হাজির হল বিজেপি-বিরোধী অন্তত ১৯টি রাজনৈতিক দল। ব্যতিক্রম আম আদমি পার্টি। বিজেপি-বিরোধী শিবিরে থাকলেও পাঞ্জাবের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করতে নারাজ আপ। তাই এই সভায় তাদের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

সভায় মূল মঞ্চে ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দোলা সেন। পাশের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মহুয়া মৈত্র, অধীররঞ্জন চৌধুরীরা। ভিড়ে ঠাসা রামলীলা ময়দান থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করার বার্তা দিলেন বিরোধী নেতানেত্রীরা।

এদিনের সভায় বাংলার ভোট লুটের অভিযোগে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, “বাংলায় বিজেপি ভোট লুট করে জিতেছে। তবে আমরা লুট নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই দিল্লি দখল করব।” মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এসআইআর আসলে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন নয়। বিজেপিকে স্পেশাল ইনসেন্টিভ দিয়েছেন ভ্যানিশ কুমার। বাংলায় নির্বাচন হাইজ্যাক হয়েছে। তাই আমরাও ছাড়ব না। লড়াই চালিয়ে যাব।

বিজেপিকে হটাবই।” বক্তৃতার শেষে ‘জয় হিন্দ’ ও ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান তোলেন মমতা। তাঁর সঙ্গে গলা মেলায় গোটা রামলীলা ময়দান।

বাংলায় ভোট চুরির অভিযোগে সরব হন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে বাংলার ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছেন, একইভাবে হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও ভোট চুরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দেশে লাগাতার এই ঘটনা ঘটছে।

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও বাংলার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, “কে না জানে, বাংলার ভোট লুট করেছে বিজেপি!

ভোটের আগে এসআইআরের মাধ্যমে ভোটারদের নাম কেটে দিয়েছে কমিশন। বিজেপি জানে, এমনিতে জিততে পারবে না। তাই ষড়যন্ত্র করে জিতেছে।”

সভায় বাংলার ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সরব হন আইসা নেত্রী নেহা বোরাও। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় বেছে বেছে মহিলা ও মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ‘ফর্ম ৮’-এর মাধ্যমে নাম বাতিলের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এই লড়াই চলবে এবং জ্ঞানেশ কুমারকে পদ ছাড়তেই হবে।

বাংলার ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও। তাঁর বক্তব্য, বাংলায় যেভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা নজিরবিহীন। তবে ভোট চুরির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ জেগে উঠেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর আশা, শীঘ্রই দেশে বড় পরিবর্তন আসবে।