পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: গত ২৮ অক্টোবর অপহৃত হওয়া দুই কুকি যুবকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের পর রবিবার মারাত্মক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ল মণিপুরের কাংপোকপি জেলায়। এর আগে শনিবার পার্শ্ববর্তী নোনে জেলার কেকরু নাগা গ্রামে দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলিতে ৩ জন কুকি যুবক নিহত হন। এই জোড়া ঘটনার পর থেকেই পুরো পাহাড়ি জেলাজুড়ে চরম উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন:
নিহত দুই যুবকের নাম পাওগিনলাল হাংশিং (২০) এবং তিংগিনলুন চংলোই (২০)।
কাংপোকপির তাফু কুকি গ্রাম থেকে অপহৃত হওয়া এই দুই যুবকের মুক্তির দাবিতে ‘কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি’ ইতিমধ্যেই জেলাজুড়ে শাটডাউন বা বনধের ডাক দিয়েছিল।আরও পড়ুন:
মণিপুর পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, যুবকদের অন্তর্ধানের পর থেকেই একাধিক যৌথ তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। রবিবার জাতীয় সড়ক-২-এর পূর্ব পাশে এসপি রোড এলাকায় মণিপুর পুলিশ, কোবরা ব্যাটালিয়ন, সিআরপিএফ, আসাম রাইফেলস এবং র্যাফ-এর যৌথ বাহিনী এক বিশাল অপারেশন চালিয়ে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে। দেহ দুটি কাংপোকপি জেলা হাসপাতালে আনা হলে সেখানে হাজার হাজার ক্ষুব্ধ মানুষ ভিড় জমান।
নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হতেই পুরো এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় এবং বেশ কয়েকটি স্থানে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেঁধে যায়।আরও পড়ুন:
পরিস্থিতির অবনতি হতে দেখে নিরাপত্তা বাহিনী দেহ দুটি কাংপোকপির পুলিশ সুপার কার্যালয়ে স্থানান্তর করে। কিন্তু ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা কার্যালয় ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা কর্মীরা একাধিক টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেন। আন্দোলনকারীরা ২ নম্বর জাতীয় সড়ক পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে দেয়। এর পাশাপাশি টানা বনধের কারণে পুরো জেলাজুড়ে সমস্ত ব্যবসা, প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।