পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি ও অন্যান্য বিরোধীদের ধারাবাহিক বিক্ষোভের পালটা হিসেবে এবার পথে নামল বিজেপি। বিরোধীদের ‘মিথ্যাচার ও অরাজকতা’র বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে গেরুয়া শিবির। সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে সোমবার কলকাতার রাজপথে মহামিছিল করল বিজেপি। কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত আয়োজিত এই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন।

তাঁর সঙ্গে একেবারে প্রথম সারিতে জাতীয় পতাকা কাঁধে নিয়ে হাঁটেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
এদিন দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরে নীতীন নবীন এসে পৌঁছলে তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি। সেখান থেকেই তাঁরা কলেজ স্ট্রিটের জমায়েতে পৌঁছে মিছিলে পা মেলান। অন্যদিকে, এই একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন হায়দরাবাদেও তেরঙ্গা হাতে মিছিলে হাঁটেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
সেখান থেকে তিনি সরাসরি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেন। রবিবার দিল্লিতে আয়োজিত ইন্ডিয়া জোটের সভাকে কটাক্ষ করে শাহ দাবি করেন, সেটি ‘ভোট বাঁচাও’ নয়, বরং ‘অনুপ্রবেশকারী বাঁচাও’ কর্মসূচি ছিল। তাঁর মতে, এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে তিন কোটি ভুয়ো নাম বাদ যাওয়াতেই বিরোধীদের এত রাগ।
কলকাতায় আসার আগে বিহারের ভাগলপুরেও মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন নীতীন নবীন।
সেখানে তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিরোধীদের নিশানা করে বলেন, বিরোধীরা শুধু ক্ষমতা চায়, আর বিজেপির কাছে সবার আগে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষা। তামিলনাড়ু ও কেরলে বিরোধীরা জয়লাভ করার সময় এসআইআর নিয়ে কেন প্রশ্ন ওঠেনি, সেই বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। কলকাতায় মিছিল শুরুর আগে বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং অভিযোগ করেন, বিদেশি শক্তির টাকায় গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা চলছে। দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার একে সত্যের যাত্রা বলে আখ্যা দেন। তবে কলকাতায় বিজেপির এই মিছিল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা। তিনি জানান, রাজ্যে মাত্র ছ'মাস আগে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে এবং এখানে বিরোধীদের বিক্ষোভের কোনও প্রভাব পড়েনি, তাই অকারণে এই মিছিল করার কোনও যৌক্তিকতা নেই।