পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সংবিধান অনুযায়ী সকলেরই প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিবাদের জায়গা দখল করে রাখার অনুমতি দেওয়া হবে। কারণ এর ফলে অন্যেরা তাঁদের প্রতিবাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। মঙ্গলবার দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভ সংক্রান্ত একগুচ্ছ মামলার শুনানিতে ঠিক এই পর্যবেক্ষণই করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ এদিন প্রতিবাদের অধিকার এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার উপর জোর দেয়।


 প্রধান বিচারপতি জানান, একটি নির্দিষ্ট জায়গাকে চিরকালের জন্য দখল করে রাখা যায় না। এমনটা হলে কৃষক, শ্রমিক বা অন্যান্য সংগঠন প্রয়োজনে কোথায় যাবে? সবারই প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে, তাই নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই জায়গা বরাদ্দ করা উচিত। শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, গত জুলাই মাসে মাত্র এক দিনের জন্য প্রতিবাদের অনুমতি দেওয়া হলেও যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে।
বিক্ষোভের জেরে ব্যবসায়িক ক্ষতির অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা করেছিল ব্যবসায়ীদের সংগঠন।
তাঁদের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী মুকুল রোহতগি জানান, প্রতিবাদের কারণে কনট প্লেস-সহ আশপাশের এলাকায় দোকানপাট বন্ধ থাকায় কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ প্রভাবিত হয়েছেন। উৎসবের মরশুমে অন্তত দু'মাসের জন্য বিক্ষোভে রাশ টানার আবেদন জানায় ‘কিয়ানা কমিটি দিল্লি’। আদালত এই আবেদনে নোটিস জারি করলেও, ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দিয়েছে যাতে তাঁরা অবিলম্বে বিক্ষোভের আয়োজকদেরও এই মামলায় যুক্ত করেন।
অন্যদিকে, এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনিভাবে আটক এবং হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
আইনজীবী ও মহিলা সাংবাদিকদের হেনস্থা, ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত করা এবং আদালতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার অভিযোগও দায়ের হয়েছে একাধিক পিটিশনে। আদালত এদিন ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা সংক্রান্ত একটি আবেদনে নোটিস জারি করেছে। মহিলা সাংবাদিক ও আইনজীবীদের হেনস্থার মামলাগুলি দীপাবলির পর আলাদাভাবে শোনা হবে বলে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে।
শুনানির সুবিধার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সমস্ত মামলাকে ন'টি ভাগে বিভক্ত করে আলাদা আলাদা শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সম্পূর্ণ নতুন কোনও বিষয় না থাকলে এই সংক্রান্ত নতুন কোনও রিট পিটিশন আর সহজে গ্রহণ করা হবে না। মামলাকারীদের পক্ষে এদিন ইন্দিরা জয় সিং, মেনকা গুরুস্বামী, এন হরিহরণের মতো বর্ষীয়ান আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি, বিক্ষোভে বিদেশিদের অংশগ্রহণ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নির্দেশিকা বা এসওপি চেয়েও আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি।