পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: হিন্দু ধর্মের দুই আরাধ্য দেবতা প্রভু শ্রীরাম ও শ্রীকৃষ্ণের তুলনা টেনে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইলেন বাঘেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত তথা ধর্মগুরু ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। যিনি ‘বাঘেশ্বর বাবা’ নামেই পরিচিত। তাঁর দাবি, একটি খণ্ডিত ও অসম্পূর্ণ ভিডিও ক্লিপের ওপর ভিত্তি করে তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার করেরা এলাকায় আয়োজিত এক রামকথার আসরে শ্রীরাম ও শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছিলেন ৩০ বছর বয়সি এই ধর্মগুরু।

সেই মন্তব্যের ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
 
 বিতর্কের ঝড় ওঠার পর একটি স্পষ্টীকরণ ভিডিও প্রকাশ করে বাঘেশ্বর বাবা জানান, ভগবান রাম এবং ভগবান কৃষ্ণের মধ্যে কোনো রকম বিভেদ তৈরি করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে তাঁর ছিল না। ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, "রামজি সহজ, আর ঠাকুরজি (শ্রীকৃষ্ণ) বক্র (খেলার ছলে চতুর বা জটিল প্রকৃতির)। অনেকেই এই কথাটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে বিভিন্ন জায়গায় অবান্তর ও অনুপযুক্ত আলোচনা শুরু করেছেন।
আমি বিনীতভাবে জানাতে চাই—আমি নিজেই ঠাকুরজির উপাসক, ব্রজভূমির ভক্ত। যখনই প্রার্থনা করি, ঠাকুরজির কাছে ব্রজে জন্ম বা জীবন প্রার্থনা করি। আমি সাধ্যমতো শ্রীমদ্ভগবত কথামৃত প্রচার করি এবং ঠাকুরজির গুণগান গাই।"

তিনি আরও ব্যাখ্যা দেন, এক ভক্তিমূলক পদের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেছিলেন।

সাধক কবি বিন্দু জি মহারাজের একটি সুপরিচিত পদের উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, বাঁশি বাজানো এক ধরনের লীলা বা ক্রীড়া, আর ধনুক ধারণ করা অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ ও দায়িত্বের বিষয়। ভক্তরা যেভাবে গোপীদের মতো বা কবিদের মতো কৃষ্ণের সঙ্গে অভিমান করেন, তিনিও সেই ভাবার্থেই কথাটি বলেছিলেন। কিন্তু পুরো ভিডিওটি না দেখে শুধুমাত্র একটি অংশ কেটে ছড়িয়ে দেওয়ায় তাঁকে ‘কৃষ্ণ-বিরোধী’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
 
ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলেও প্রবল সমালোচনার ঝড় ওঠে। সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানান। অখিলেশ যাদব এক্স-এ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হিন্দু ধর্মের পূজনীয় দেবতাদের নিয়ে এই ধরনের অবমাননাকর তুলনা সনাতন সমাজের ঐক্য বিনষ্ট করার এক গভীর চক্রান্ত।