পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, কুসংস্কারের অন্ধকার কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তারই মর্মান্তিক নজির গুজরাটের আহমেদাবাদে। ধর্মীয় বিশ্বাসের নামে বলি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। নিজের একমাত্র ১০ বছরের ছেলেকে দেবীর বেদিতে আছড়ে খুন করার পর তার রক্তাক্ত দেহের পাশেই রাত কাটিয়েছেন তিনি। গুজরাটের আহমেদাবাদ জেলার সানন্দ ব্লকের ভিঞ্চিয়া গ্রামে রবিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত নরেশ প্যাটেল পেশায় খেতমজুর।

 

স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর স্ত্রী ভারতীবেন বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। ছেলের স্কুলের কথা ভেবে একমাত্র সন্তান করণকে স্বামীর কাছেই রেখে যান তিনি। রবিবার রাতে এক প্রতিবেশী ফোন করে তাঁকে ঘটনার কথা জানান। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ গ্রামে ফিরে ভারতীবেন দেখেন, ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় খাটে পড়ে রয়েছে। তার কপালে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

একই খাটে শুয়ে ছিলেন নরেশ। তাঁর পোশাকেও রক্ত লেগেছিল।

ভারতীবেনের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, ছেলের মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে নরেশ বলেন, তাঁর বাবা দেবীর ‘ভূভা’ ছিলেন। স্থানীয় ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, ‘ভূভা’ হলেন এমন এক ব্যক্তি, যিনি দেবদেবীর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন। বাবার মৃত্যুর পর তিনিও সেই দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

তাঁর পর পরিবারের আর কেউ যাতে ‘ভূভা’ না হয়, সে জন্য একমাত্র ছেলেকে দেবীর বেদিতে বলি দিয়েছেন বলে দাবি করেন নরেশ।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নরেশ ছেলের পা ধরে দেবীর বেদির সামনে দুই থেকে তিনবার আছড়ে ফেলেন। পরে লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে খুন করেন। সানন্দ থানার পরিদর্শক জয়প্রকাশ চৌহান জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।