উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,জয়নগর : চুরি করতে এসে প্রথমে ফ্রিজ খুলে পেট ভরে জন্মদিনের কেক খেল দুষ্কৃতীরা। তার পর বাড়ির দামি সামগ্রী হাতিয়ে চম্পট দিল তিন চোর।শুধু তাই নয়, ঠাকুরঘরে থাকা রাধাকৃষ্ণের মূর্তির পোশাক ছিঁড়ে সেটি সোনার কি না, তা পরীক্ষা করারও চেষ্টা করে তারা। নরেন্দ্রপুর থানার গড়িয়ার ফরতাবাদ এলাকার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরতাবাদের বি-৬ প্রান্তিকা এলাকার বাসিন্দা পৃথ্বীরাজ রায়ের বাড়িতে রবিবার চুরির ঘটনা ঘটে।

ওই দিন বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে তিন দুষ্কৃতী জানালার গ্রিল কেটে ভিতরে ঢোকে। বাড়ির সদস্যদের দাবি, মাত্র ৪০ মিনিটের মধ্যে নগদ টাকা, মূল্যবান রত্ন, বিদেশি ডলার, বিদেশি মদ-সহ পাঁচ লক্ষ টাকারও বেশি সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।অভিযোগ, বাড়িতে ঢুকেই প্রথমে ফ্রিজ খুলে জন্মদিনের কেক বের করে আয়েশ করে খেতে শুরু করে দুষ্কৃতীরা। উল্লেখ্য, ঘটনার ঠিক দু'দিন আগে ওই বাড়ির মেয়ে সুকন্যা রায়ের জন্মদিন ছিল। সেই উপলক্ষে ফ্রিজে কেক রাখা ছিল।
কেক খাওয়ার পর বাড়ির ভিতরে সিসিটিভি ক্যামেরা দেখতে পেয়ে মুখে কালো কাপড় বেঁধে নেয় চোরেরা।এর পর বাড়ির বিভিন্ন ঘরে তল্লাশি চালায় তারা।সোফার চাদর গায়ে জড়িয়ে একের পর এক ঘরে ঢুকে দামি সামগ্রী খুঁজতে থাকে দুষ্কৃতীরা। এমনকি ঠাকুরঘরে থাকা রাধাকৃষ্ণের মূর্তির উপরেও নজর পড়ে তাদের। মূর্তিটি সোনার কি না, তা যাচাই করতে পোশাক পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলে বলে অভিযোগ।
বাড়ির সদস্যদের দাবি, নগদ টাকা, মূল্যবান রত্ন, বিদেশি ডলার ও বিদেশি মদ ছাড়াও পড়াশোনার বেশ কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং একটি ক্যামেরা ভাঙচুর করে দুষ্কৃতীরা। চুরির প্রমাণ লোপাট করতে সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ড ডিস্ক খোঁজারও চেষ্টা করে তারা। যদিও শেষ পর্যন্ত হার্ড ডিস্কটির সন্ধান পায়নি।পরিবারের আরও দাবি, জন্মদিনে সুকন্যা একটি দামি উপহার পেয়েছিলেন। সেই মূল্যবান সামগ্রী হাতাতেই দুষ্কৃতীরা পরিকল্পনা করে বাড়িতে ঢুকেছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তিন অভিযুক্তের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।