প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের রয়েছে। তবে প্রতিবাদের নামে দিনের পর দিন কোনও জায়গা দখল করে রাখা যায় না। দিল্লির বিক্ষোভের জেরে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার এমনই পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “প্রতিবাদ ও ব্যবসা করার অধিকার-দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি অনির্দিষ্টকালের জন্য একটি জায়গা দখল করে রাখতে পারেন না। অন্য প্রতিবাদীরাও রয়েছেন।

কৃষক, ব্যবসায়ী কিংবা আইনজীবীরা কোথায় যাবেন? প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের আছে।”

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এ অনিয়মের অভিযোগে দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। এই আন্দোলনের জেরে উৎসবের মরসুমে ব্যবসায় ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন দিল্লির ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, বিক্ষোভের কারণে দোকানপাট বন্ধ রাখতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে ব্যবসায়।

শুনানিতে ব্যবসায়ীদের পক্ষে আইনজীবী মুকুল রোহতগি বলেন, উৎসবের মরসুমে দিনের পর দিন দোকান বন্ধ থাকলে ব্যবসার ক্ষতি হয়।

বিক্ষোভের কারণে কয়েকটি এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি হওয়ায় দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, বিক্ষোভ কর্মসূচি যাঁরা করবেন, দায়িত্ব তাঁদেরই। একই সঙ্গে ব্যবসার ক্ষতি বা বিক্রি কমে যাওয়ার জন্য শুধু প্রতিবাদ কর্মসূচিকেই দায়ী করা যায় কি না, সেই প্রশ্নও ওঠে।

প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য এমন একটি নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করার পরামর্শ দেন প্রধান বিচারপতি, যেখানে ব্যবসায়ীদের কোনও ক্ষতি হবে না। তিনি আরও বলেন, প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও কর্মসূচি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হওয়া উচিত। অন্যদিকে, আইনজীবী মুকুল রোহতগি আগামী দু’মাস কোনও প্রতিবাদ বা ধর্না না করার প্রস্তাব দেন।

সিজেপি প্রথমে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু সেখানে অনুমতি না দিয়ে দিল্লি পুলিশ বিকল্প তিনটি জায়গা নির্দিষ্ট করে দেয়। শুনানিতে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল জানান, গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে এক দিনের বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হলেও সেই নির্দেশ মানা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘ সময় জায়গাটি দখল করে রাখেন এবং সংসদ অভিমুখে মিছিলও করেন। সংসদে অভিযান চালানোর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের তুলনা টেনে তিনি বলেন, সংসদ অন্য রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মতো নয়।

এর আগেও একই জায়গায় দীর্ঘদিন বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০২১ সালে শাহিনবাগে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-বিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় শীর্ষ আদালত বলেছিল, প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও যত্রতত্র এবং যখন খুশি আন্দোলন করা কাম্য নয়।