পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর ধ্বংসলীলায় বিপর্যস্ত উড়িষ্যা। রবিবারে দক্ষিণ উড়িষ্যার ভূমিধস-কবলিত একটি গ্রাম থেকে আরও দু’টি মৃতদেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬। এখনও অন্তত ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। গঞ্জাম ও কান্ধামাল জেলার সীমান্তে পাহাড়ি উপত্যকার 'গিদিপাবালি' গ্রামটি ঘূর্ণিঝড়জনিত অতিবৃষ্টি ও ধসের কারণে কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে পুরোপুরি তলিয়ে মানচিত্র থেকেই মুছে গেছে। ওই গ্রামের মাত্র ১৩ জন বাসিন্দা অলৌকিকভাবে প্রাণ বাঁচিয়ে জি উয়েগিরির একটি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
এরই মধ্যে নতুন আশঙ্কা জাগিয়ে ৩ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে আরও এক শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসুর’। জোড়া দুর্যোগ মোকাবিলায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের পাশাপাশি দ্বিতীয় ঝড়ের প্রস্তুতি হিসেবে রাজ্যে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট।
আরও পড়ুন:
বিশেষ ত্রাণ কমিশনার রাজেশ পি পাতিল জানিয়েছেন, গত ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশে ল্যান্ডফল করা ঘূর্ণিঝড় অর্ণব ও তার পরবর্তী বন্যায় উড়িষ্যায় অন্তত ১.১৮ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রাজ্যের ৭৫,৩৮৮ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে এবং ১,৬৭২টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। তিনি আরও জানান, অর্ণবের কারণে অন্তত ১০টি স্থানে মারাত্মক ধসের ঘটনা ঘটেছে, যা উদ্ধারকাজে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে গঞ্জাম এবং কান্ধামাল জেলায়। দক্ষিণ উড়িষ্যায় বিদ্যুৎ পরিষেবা দ্রুত ফেরাতে ৬,৪০০-রও বেশি কর্মী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছেন।আরও পড়ুন:
রবিবার বন্যার্ত এলাকাগুলির আকাশপথ পর্যবেক্ষণ করেন উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। পরিদর্শনের পর তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একটি বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, দক্ষিণ উড়িষ্যার প্রতিটি বন্যাদুর্গত পরিবারকে ৫০ কেজি করে চাল এবং নগদ ২,৫০০ টাকা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া বাড়িঘর ও ফসলের ক্ষতির জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর পার হওয়ার পর সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত মূল্যায়ন করে ত্রাণ সহায়তার পরিমাণ পুনর্বিবেচনা করা হবে।