পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: চুক্তির লক্ষ্যে দৌত্য চলার মাঝেই নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ল আমেরিকা ও ইরান। ইরানের কেশম দ্বীপে আমেরিকার হামলার কড়া জবাব দিল তেহরান। ইরানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া দুটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে তারা। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালীর নিষিদ্ধ অঞ্চল দিয়ে যাওয়ার সময় ইরানের পেতে রাখা মাইনে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার।


ইরানের সংবাদমাধ্যম ও আইআরজিসির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকা বন্দর খামিরের কাছে ওই দুটি মার্কিন ‘লুকাস’ ড্রোনকে গুলি করে নামানো হয়। হরমুজ প্রণালীর উপর নজরদারি চালানোর জন্য এই এলাকাটি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, নজরদারি এড়িয়ে অননুমোদিত পথ ধরে যাওয়ার সময় হরমুজে তিনটি পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার মাইনের কবলে পড়ে। ড্রোন ধ্বংস এবং মাইনে ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এই জোড়া ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় কাতার দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কাতারের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সোমবার রাতে তাদের একটি মধ্যস্থতাকারী দল তেহরান থেকে দোহায় ফিরে এলেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আঞ্চলিক ও উপসাগরীয় দেশগুলো এই সংঘাত বৃদ্ধির তীব্র বিরোধী এবং দুই পক্ষই এখন আগামী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কাতারের মাধ্যমেই ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডেপুটি জেডি ভ্যান্স। সেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সরাসরি আলোচনার একটি কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু সেই শান্তি বার্তার মাঝেই ফের এই পালটাপালটি হামলা শুরু হওয়ায় পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।