পুবের কলম, ভুবনেশ্বর: ওড়িশার সুন্দরগড় জেলার রাউরকেল্লা ইস্পাত কারখানা (আরএসপি)-র দ্বিতীয় ডাবল ট্র্যাকিং রেললাইন প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে আদিবাসীরা। জমি অধিগ্রহণ ও উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের বিক্ষোভ সরাতে সোমবার সকালে বর্বরোচিত অভিযানের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। বন্ডমুণ্ডা থানার অন্তর্গত বারকানি গ্রামে আদিবাসীদের একটানা চলা ধরনামঞ্চে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে ১৫ বছরের এক নাবালিকা এবং বৃদ্ধা নারীদেরসহ একাধিক বিক্ষোভকারীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে আটক করে নিয়ে যায়।

দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ে এবং আরএসপি-র যৌথ উদ্যোগে কায়দা খনি অঞ্চল থেকে কাঁচামাল সরাসরি নিয়ে আসার জন্য বারকানি ও দুমেরতা হয়ে বাসুয়ান লাইন পর্যন্ত এই অতিরিক্ত ডাবল ট্র্যাক তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

কিন্তু পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও সম্মতি ছাড়াই কৃষিজমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে—এই অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায় টানা আন্দোলন চালিয়ে আসছে। অভিযোগ, সোমবার সকালে আচমকা হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান এসে পুরো ধরনামঞ্চ ঘিরে ফেলে। 

বারকানি গ্রামের বাসিন্দা ও আন্দোলনের অন্যতম প্রতিনিধি পান্ডু জানান, "পুলিশ আমাদের আন্দোলন কেন্দ্র থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে শুরু করে। নারী, শিশু ও প্রবীণ কাউকেই রেহাই দেওয়া হয়নি।

আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে আন্দোলন থামানোর নির্দেশ দেয়। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে নবম শ্রেণিতে পড়া ১৫ বছরের এক কিশোরী শুধু ঘটনাটি নিজের ঘরের সামনে এসে দেখতে দাঁড়িয়েছিল, তাকেও বলপ্রয়োগ করে টেনে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।" 

সামাজিক কর্মীদের অভিযোগ, লাগাতার বেআইনি খনন, সম্প্রসারণ ও উচ্ছেদের ফলে সুন্দরাগর ও রাউরকেল্লার ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলো নিজেদের জমি ও সংস্কৃতি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। আরএসপি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো রকম দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বা সমঝোতা না করে প্রশাসনকে সামনে রেখে পুলিশি হিংসার আশ্রয়ে জমি দখলের চক্রান্ত চলছে বলেও তাঁরা অভিযোগ তুলেছেন।