উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: এবার বারুইপুরে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডারের সন্ধানে অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন অর্থাৎ (ওএনজিসি)।বারুইপুর থানার বেগমপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ইতিমধ্যে খোঁড়াখুঁড়ির প্রস্তুতি নিয়েছে তাঁরা। খননকাজ চালানোর জন্য যে যন্ত্রের প্রয়োজন তা নিয়ে আসার জন্য রাস্তা তৈরির কাজ ও চলছে।জানা গিয়েছে, তিন বছর ধরে এই খনন কাজ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে ও এন জি সি’র।তাই কর্মী আধিকারিকদের থাকার জন্য ঘর,কনফারেন্স রুম ইত্যাদিতৈরির কাজ ও শুরু হয়ে গেছে।জানা গিয়েছে, বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার বেগমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২০০ কলোনি গ্রামে এই কাজ হবে।এই এলাকা থেকে প্রায় এক কিলো মিটার ভিতরে আছে একটি ফাঁকা মাঠ।বছর দেড়েক আগে ও এন জি সি’র কর্তারা সেখানে পরিদর্শনে এসেছিলেন। মাটির ভিতরের অংশ থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়েছিলেন।

তাদের অনুমান, সেখানে মাটির ভিতর খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মিলতে পারে।আর তাই রীতিমতো প্রস্তুত হয়ে এবারে এসেছে ওএনজিসি। ওই গ্রামে কৃষকদের থেকে জমি অধিগ্রহণ করার কাজ শেষ। তার জন্য তাঁদের দু’লক্ষ টাকা করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় এই সংস্থাটি।এখানে খনন করতে ব্যবহার হবে ‘রিক মেশিন’। সেই মেশিন এই এলাকায় নিয়ে আসতে পাকাপোক্ত রাস্তার প্রয়োজন।আর তাই গ্রামের মেঠো পথকে কংক্রিটের রাস্তায় পরিণত করার কাজ হচ্ছে।ও এন জি সি সংস্থা সূত্রে খবর, মেশিন আসার পর খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শুরু করা হবে। এ ব্যাপারে বেগমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রিয়া বর্মন বলেন, ‘ও এন জি সি কর্তারা ১০০ শতাংশ আশাবাদী যে, এখানে খনন চালিয়ে প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেল মিলবে।
আর তাই তারা সবকিছু গুছিয়ে এখানে কাজে নেমেছে।আর এখানে খনন করে প্রাকৃতিক তেল পাওয়া গেলে এই এলাকার চেহারাটাই পাল্টে যাবে।’বছর চারেক আগে উওর ২৪ পরগনার অশোকনগরে প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেল উত্তোলন হয়ে ছিল।আর সেই ঘটনার পর এখন আশায় বুক বাধছেন এই বেগমপুরের গ্রামবাসীরা। কারণ এখানে তেল পাওয়া গেলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে।পাশাপাশি খনিজ তেলের মানচিত্রে উঠে আসবে বারুইপুরের নাম। বেগমপুর পঞ্চায়েত এলাকার বেশিরভাগ মানুষ বাজি শিল্পের উপর নির্ভরশীল।নানা ধরনের আতসবাজি বানিয়ে তাঁদের সংসার চলে।খনন কাজের পর খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মিললে তাদের কাছে বিকল্প কর্মসংস্থানের দরজা খুলে যাবে।
এ ব্যাপারে বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার বিধায়ক বিভাস সরদার বলেন, ‘এক হাজার একরের ও বেশি জমিতে ওই সংস্থা কাজ করবে।এর ফলে এলাকার আর্থিক সমৃদ্ধি ঘটবে। কর্মসংস্থানের পথ খুলবে বলে আমরা খুশি।ওদের যতখানি সহায়তার দরকার আমরা করবো।’বেগমপুরের ২০০ কলোনির বাসিন্দা প্রদীপ মণ্ডল ও শংকর মণ্ডল তাদের নিজেদের জমি ইতিমধ্যে তুলে দিয়েছেন।তাঁরা বলেন, ‘আমাদের থেকে জমি অধিগ্রহণ করে টাকা দিয়ে দিয়েছে।এই কাজ হলে এলাকার অনেকের কর্মসংস্থান হবে। আমরা খুশি।’উল্লেখ্য,যে জায়গায় এই কাজ চলছে তার থেকে প্রায় দেড় কিলো মিটার দূরে রয়েছে লোকবসতি। কিছু চাষের জমি রয়েছে। আর বাকিটা ফাঁকা, নির্জন জায়গা।প্রাকৃতিক তেল খনন সম্পন্ন হলে এই এলাকার আর্থ সামাজিক পরিবর্তন ঘটে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।