আরও পড়ুন:
পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো কোনো কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী দ্বিতীয় দফা বা রান-অফে পৌঁছাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দেশটির রাজনীতিতে একটি নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জরিপ অনুযায়ী কট্টর ডানপন্থী দল চেগার নেতা আন্দ্রে ভেনচুরা প্রথম দফায় সবচেয়ে বেশি ভোট পেতে পারেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় দফায় তিনি যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছেই পরাজিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন।
ফলে গত চার দশকের মধ্যে এই প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী প্রথম দফায় সরাসরি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হতে নাও পারেন।আরও পড়ুন:
এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে বাস্তবভাবে দ্বিতীয় দফায় ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে মাত্র পাঁচজনের। তারা হলেন সমাজতান্ত্রিক দলের নেতা আন্তোনিও হোসে সেগুরো, উদারপন্থী ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য জোয়াও কোট্রিম ফিগেইরেদো, ডানপন্থী সরকারের সমর্থিত প্রার্থী লুইস মার্কেস মেন্দেস, অবসরপ্রাপ্ত নৌ-অ্যাডমিরাল এনরিক গুভেইয়া ই মেলো এবং কট্টর ডানপন্থী নেতা আন্দ্রে ভেনচুরা।
মেলো বিশেষভাবে পরিচিত কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। জরিপ সংস্থাগুলোর মতে, দ্বিতীয় দফায় ভেনচুরার সম্ভাব্য চার প্রতিদ্বন্দ্বীর যে কেউই তাকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারেন। তবু এই নির্বাচনকে নিজের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন ভেনচুরা। বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যেই তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।আরও পড়ুন:
লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আন্তোনিও কস্তা পিন্তো মনে করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে ভেনচুরা মূলত তার ভোটব্যাংক ধরে রাখতে চাইছেন। একই সঙ্গে কট্টর ডানপন্থীদের শক্তিশালী অবস্থান বর্তমান ডানপন্থী সংখ্যালঘু সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াবে, কারণ কিছু নীতি বাস্তবায়নে সরকার চেগা দলের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল।
আরও পড়ুন:
রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোটকেন্দ্র খুলেছে এবং রাত ৮টায় ফলাফল ঘোষণার কথা রয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় দফার ভোট, যেখানে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। প্রসঙ্গত, পর্তুগালের প্রেসিডেন্টের সরাসরি নির্বাহী ক্ষমতা না থাকলেও সংকটকালে সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচন ডাকা কিংবা প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা তার হাতে রয়েছে। প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার দেশ পর্তুগাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোজোনের সদস্য, যার অর্থনীতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ অবদান রাখে।