পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের কোটদ্বারের এক জিম মালিকের সাহসিকতা এখন দেশজুড়ে চর্চার বিষয়। জনৈক ৭০ বছর বয়সী মুসলিম দোকানদারকে উত্তেজিত ভিড়ের হাত থেকে রক্ষা করে খবরের শিরোনামে এসেছেন দীপক কুমার। তাঁর এই বীরত্বকে কুর্নিশ জানিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, “দীপক আমাদের তেরঙ্গা এবং সংবিধানকে রক্ষা করেছেন; এর চেয়ে বড় দেশপ্রেম আর কিছু হতে পারে না।”
ঘটনাটি ঘটে গত মাসে প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন। কোটদ্বারে ‘আহমেদ’স বাবা স্কুল ড্রেস অ্যান্ড ম্যাচিং সেন্টার’ নামে একটি দোকানে একদল যুবক চড়াও হয়। তাদের দাবি ছিল, ‘বাবা’ শব্দটি শুধুমাত্র ‘সিদ্ধাবলী বাবা’-র (স্থানীয় দেবতা) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কোনো মুসলিম দোকানদার এই নাম ব্যবহার করতে পারবেন না। দীপক কুমার সেই সময় বন্ধুর দোকানেই ছিলেন। বজরং দলের কর্মীদের সাথে দোকানদারের বিতর্ক যখন সাম্প্রদায়িক রূপ নিতে শুরু করে, তখন দীপক রুখে দাঁড়ান। ভিড়ের সামনে নিজের পরিচয় দিয়ে তিনি সাহসের সাথে বলেন, “আমার নাম মহম্মদ দীপক, তাতে আপনাদের কী?”
পেশায় জিম ট্রেইনার দীপক সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি আদর্শে বিশ্বাস করি। হনুমানজি আমাদের জিমের প্রতিটি সদস্যের কাছে এক আদর্শ, কারণ তিনি কঠোর পরিশ্রমের প্রেরণা দেন।” তবে এই সাহসিকতার চড়া মাশুল দিতে হয়েছে দীপককে। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার জেরে তাঁর জিমের সদস্য সংখ্যা ১৫০ থেকে কমে মাত্র ১৫-তে দাঁড়িয়েছে। তা সত্ত্বেও নিজের অবস্থানে অনড় এই যুবক।
সম্প্রতি দীপক কুমারের সাথে দেখা করেন রাহুল গান্ধী। সেই সাক্ষাতের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ শেয়ার করে রাহুল লেখেন, “কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে সদিচ্ছা ও ভালোবাসা রয়েছে, কিন্তু সেই সাথে রয়েছে ভয়ও। দীপক তাঁর সাহসিকতা দিয়ে সেই ভয় জয়ের পথ দেখিয়েছেন। যারা ঘৃণা ছড়িয়ে সমাজকে ভয় দেখাতে চায়, তারা আসলে কাপুরুষ।” রাহুল গান্ধী দীপকের পরিবারের সাথেও কথা বলেন এবং আশ্বস্ত করেন, সঠিক কাজ করার জন্য ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।





























