পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ভোটে জিততে না পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলে মন্তব্য করেছিলেন প্রশান্ত কিশোর। এবার নিজের সন্ন্যাস নেওয়ার দাবি থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে বসলেন জন সুরজ পার্টির প্রধান। একইসঙ্গে আঙুল তুললেন জেডিইউ-র দিকে। পিকের অভিযোগ, ‘বিহারে টাকা দিয়ে ভোট কিনেছেন নীতীশ কুমার।’ দলের লজ্জার হারের পর এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর। পিকে বলেন, তিনি জন সুরজের কোনও রাজনৈতিক পদে নেই। ফলে আলাদা করে পদত্যাগেরও প্রয়োজন নেই। ভোটে হারলেও তিনি বিহারেই থাকবেন, বিহারেই ঘুরে বেড়াবেন। এরপরই নীতীশ কুমারকে তোপ দেগে বলেন, নির্বাচনের আগে সরকারের ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’য় মহিলাদের ১০ হাজার টাকা করে বিতরণের মাধ্যমেই কেনা হয়েছে ভোট।

এদিকে রবিবার পিকের দল দাবি করেছে, বিহার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিশ্বব্যাংক থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার তহবিল নিয়েছে এনডিএ জোট। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জন সুরাজ দলের মুখপাত্র পবন ভার্মা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অন্য একটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল তুলে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনার আওতায় মহিলা ভোটারদের মধ্যে বিতরণ করছে। বিহারের ১.২৫ কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। এই অর্থের উৎস সন্দেহ তৈরি করেছে। পবন ভার্মার দাবি, "বর্তমানে বিহারে সরকারি ঋণের বোঝা ৪ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থের সুদ প্রতিদিন ৬৩ কোটি টাকা। রাজ্যের কোষাগার খালি। বিশ্বব্যাংকের থেকে নেওয়া অর্থ থেকেই মহিলাদের ১০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে।" নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "অক্টোবরে নির্বাচনের জন্য নৈতিক আচরণবিধি জারি হওয়ার এক ঘন্টা আগে ১৪ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছিল এবং রাজ্যের ১.২৫ কোটি মহিলাকে বিতরণ করা হয়েছে।

" বিহার নির্বাচনে ছড়িয়ে পড়া গুজব নিয়েও এদিন মুখ খুলেছেন তিনি। ভার্মার কথায়, "বিহারে ৪ কোটি মহিলা ভোটার রয়েছেন। তারমধ্যে ২.৫ কোটি ওই টাকা পাননি। বাকি মহিলারা মনে করেছিলেন যে এনডিএ ক্ষমতায় না এলে আমরা সেই সুবিধা পাব না।" বিহারে খাতা খুলতে না পারা নিয়ে জন সুরাজের মুখপাত্র বলেন, "ভোটমুখী বিহারে মহিলাদের আর্থিক সহায়তার কারণে আমাদের দলীয় বার্তা কাজ করেনি। এছাড়াও নতুন দল হওয়ার জন্য আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা অত্যধিক ছিল। কিন্তু আমাদের বার্তা সঠিক ছিল এবং মানুষের ভালো সাড়া মিলেছিল।" মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনার মতো প্রকল্পগুলি নির্বাচনী সমীকরণকে বদলে দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পূর্ববর্তী মন্তব্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই খয়রাতির রাজনীতির সমালোচনা করেছিলেন।
কিন্তু বিহারে কী হল? ক্ষমতার লোভে তাঁরা খয়রাতির রাজনীতিই করলেন।"

উল্লেখ্য, এনডিএ বনাম মহাজোটের চিরাচারিত লড়াইয়ে বিহারের রাজনীতিতে তৃতীয় বিকল্প হিসাবে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করেন পিকে। তাঁর জন সুরাজ পার্টি জাতপাতের রাজনীতিতে ক্লিষ্ট বিহারে নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু সেই সবটাই সোশাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমে। প্রশান্ত মাঝে মাঝে সংবাদমাধ্যমে ইন্টারভিউ দেন, বড় বড় দাবি করেন, প্রচারে থাকেন। কিন্তু রাজনীতির রুঢ় বাস্তব যে অনেক কঠিন তা হইত বুঝতে পেরেছেন পিকে। এদিকে জন সুরাজ দলের আরেক নেতা উদয় সিংও একই অভিযোগ করেছেন। সিং বলেন, "জুন থেকে নির্বাচন ঘোষণার আগ পর্যন্ত নীতীশ কুমার সরকার জনগণের অর্থ দিয়ে জনগণের ভোট কেনার জন্য ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে। বিশ্বব্যাংক থেকে তারা যে ঋণ পেয়েছিল তার ১৪ হাজার কোটি টাকাও অনুদান এবং বিনামূল্যে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।"