উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : পর্যটকদের বেড়ানোর নিরাপত্তা ঠিক রাখতে এবার সুন্দরবনে ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া এনওসি পাবেই না কোনও বোট।যে সমস্ত বোট পর্যটকদের নিয়ে সুন্দরবনের জলপথে ঘুরে বেড়ায় তাদের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) পাওয়ার ক্ষেত্রে এবার কড়াকড়ি করলো দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ। তারা জানিয়ে দিয়েছে, ফিটনেস সার্টিফিকেট (সিএফ) না থাকলে সংশ্লিষ্ট বোটকে এনওসি দেওয়া হবে না। অর্থাৎ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় পাশ না করলে মিলবে না এনওসি।
এতদিন সিএফের আগেই নো অবজেকশন সার্টিফিকেট প্রদান করা হতো।
বোটের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জেলা পরিষদ ইতিমধ্যেই একটি এজেন্সিকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভেবেছে। ঠিক করেছে। তারাই দেবে ফিটনেস সার্টিফিকেট। ওই সার্টিফিকেট দেখিয়ে বোট মালিক এনওসির জন্য জেলা পরিষদেআবেদন করতে পারবেন। তারপর ওই নথি নিয়ে বোট লাইসেন্সের জন্য সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভে আবেদন করতে হবে।কেউ যদি সিএফ না পান, তাহলে এনওসি তো দূরঅস্ত, লাইসেন্সের জন্য আবেদনও করতে পারবেন না।আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, এনওসি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে নভেম্বর মাসে। তার আগে টেন্ডার ডেকে একটি এজেন্সিকে কাজের দায়িত্ব দেবে জেলা পরিষদ। জানা গিয়েছে, যে সব এজেন্সি বোট পরীক্ষার কাজের সঙ্গে যুক্ত বা আগে এই ধরনের সরকারি কাজ করেছে, তেমন কোনও সংস্থাকে এ বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অক্টোবরের মধ্যে মালিকদের বোট পরীক্ষা করাতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বোটের ইঞ্জিন কেমন, পরিকাঠামো ঠিক আছে কি না, আয়তন কতটা ইত্যাদি যাচাই করবে ওই সংস্থা। কোথাও কোনও খামতি থাকলে আটকে যেতে পারে এই ফিটনেস সার্টিফিকেট।আরও পড়ুন:
সুন্দরবন ভ্রমণে আসা পর্যটকদের একাংশই বোট নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ তুলেছিলো। পাশাপাশি সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের পক্ষ থেকেও এনওসি দেওয়া নিয়ে কড়াকড়ি করার কথা বলা হয়েছে। তার প্রেক্ষিতেই জেলা পরিষদ পদ্ধতিতে বদল আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি নীলিমা মিস্ত্রি বিশাল বলেন, পর্যটকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এবার থেকে লাইসেন্স দেওয়ার নিয়মের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হচ্ছে। যেহেতু এই বোটে সারা বছর হাজার হাজার পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেন, তাই এই জলযানের পরিকাঠামো ঠিক রাখা বাঞ্ছনীয়।আর সেই কারনে সব দিক বিবেচনা করেই তবেই তাদের জলযানকে নদী পথে নামার অনুমতি দেবে সরকার।