কৌশিক সালুই, বীরভূম: জেলায় বেআইনি পোস্ত, নিষিদ্ধ মাদক গাজা চাষ বন্ধ করতে উদ্যোগী হল বীরভূম জেলার আবগারি দফতর ও পুলিশ। জেলাজুড়ে সম্ভাবিত এলাকায় কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সিউড়ি ২ ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় সংশ্লিষ্ট দফতর গুলির পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত প্রচার করে বেআইনি কারবার বন্ধ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

আবগারি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত কয়েক বছর ধরে বীরভূম জেলায় পোস্ত চাষ শূন্য জেলা হয়েছে।

এবারও যাতে সেই লক্ষ্যেই পৌঁছানো যায় তার জন্য কড়া নজরদারি, ও নিয়মিত প্রচার করে মানুষকে সচেতন করার কর্মসূচি চলছে। বেআইনি পোস্ত চাষের পাশাপাশি যাতে কোনভাবে কেউ গাঁজা চাষ না করতে পারে তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। যদিও জেলায় নিষিদ্ধ মাদক কারবারিদের কাছ থেকে পুলিশের ধরপাকড় নেশা সামগ্রী যা বাজেয়াপ্ত হয় তা ভিন রাজ্য থেকে আমদানি করা হয়।  এই সমস্ত জিনিস জেলায় আসে কোন কোন সময়ে। যদিও আবগারি দফতরের এর কড়া নজরদারি রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে।

বেআইনি পোস্ত ও নিষিদ্ধ গাঁজা চাষ বন্ধে কড়া আবগারি দফতর

এদিন  বীরভূম জেলা আবগারি দফতরের পক্ষ থেকে সিউড়ি থানাকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে। সিউড়ি ২ ব্লকের গোবরা, ধনঞ্জয় বাটি, দমদমা প্রভৃতি এলাকায় এ অভিযান  হয়। মাঠে মাঠে ঘুরে দেখেন আধিকারিকরা। পোস্ত চাষ সাধারণত এই সময়ে অর্থাৎ রবি শস্য চাষ মরশুমে করা হয়। ছোট অবস্থায় সরষে গাছের মতো দেখতে লাগে।

তাই একটু গাছ বড় না হলে বোঝা যায় না সেটি পোস্ত না সরষে গাছ। এর জন্য নিয়মিত দফতরের পক্ষ থেকে মাঠে গিয়ে সরেজমিনে এবং ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে সম্ভাবিত এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছে বিগত কয়েক বছর ধরে।

বেআইনি পোস্ত ও নিষিদ্ধ গাঁজা চাষ বন্ধে কড়া আবগারি দফতর

প্রশাসনের কড়া নজরদারি এবং ধরপাকড় বর্তমানে সেই বেআইনি ও নিষিদ্ধ চাষ জেলাতে কার্যত বন্ধ। মানুষের সচেতনতা বাড়াতে গাড়িতে করে মাইক দিয়ে নিয়মিত  ফ্লেক্স পোস্টার সাঁটানো, হ্যান্ডবিল ছড়ানো, সোশ্যাল মিডিয়া, টেলিভিশন এবং রেডিওর মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এর সুফল মিলেছে হাতেনাতে এবং বর্তমানে বীরভূম জেলা নিষিদ্ধ চাষ বন্ধ।

বেআইনি পোস্ত ও নিষিদ্ধ গাঁজা চাষ বন্ধে কড়া আবগারি দফতর

জেলা আফগানি সুপার দীনেশ চন্দ্র মন্ডল বলেন, 'জেলায় নিষিদ্ধ মাদক এবং বে-আইনি পোস্ত চাষ বন্ধ করতে নানারকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত নজরদারি পাশাপাশি মানুষকে সচেতন ও তার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে জেলায় কোথাও কোনও সংশ্লিষ্ট চাষ হয় না'।