পুবের কলম, চেন্নাই: তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে দুটি নতুন সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের সংশোধিত বাজেটে এই ঐতিহাসিক ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে। নতুন এই দুই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের অধীনে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া প্রতিটি নবজাতককে ১ গ্রামের সোনার আংটি এবং প্রতিটি বিবাহিত কনেকে ৮ গ্রামের সোনার মুদ্রা ও একটি সিল্কের শাড়ি দেওয়া হবে। চলতি বছরের বাজেটে ঘোষিত এই দুই জনকল্যাণমূলক সামাজিক প্রকল্প নিয়ে ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ু জুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
নবজাতকদের জন্য ঘোষিত এই প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘থাই মামান থাঙ্গা মোথিরাম থিত্তাম’। তামিল ঐতিহ্য অনুযায়ী, পরিবারে নতুন শিশু ভূমিষ্ঠ হলে তার মামা উপহার বা ‘সির’ দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তামিলনাড়ু সরকার রূপক অর্থে প্রতিটি নবজাতকের ‘মামা’-র ভূমিকা পালন করবে। রাজ্য জানিয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য বাজেটে ৫৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মা ও নবজাতককে সম্মানিত করার পাশাপাশি প্রসূতিদের সরকারি হাসপাতালে সন্তান প্রসব করাতে উৎসাহিত করা। এটি সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সি এন আন্নাদুরাইয়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটি চালু হবে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব নিশ্চিত করতে চলতি বছরের ২২ জুনের পর থেকে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া সমস্ত শিশু এই সুবিধার আওতায় আসবে।
বিবাহিত কনেদের সহায়তার জন্য দ্বিতীয় প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছে ‘অন্নন সির’। ঐতিহ্যবাহী তামিল সংস্কৃতিতে বিয়ের সময় কনেকে তাঁর ভাইয়ের পক্ষ থেকে উপহার দেওয়ার যে প্রথা রয়েছে, সেই কাস্টম বা রীতি থেকেই এই নামটি নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের মতে, এই প্রকল্পের অধীনে যোগ্য কনেরা একটি ৮ গ্রামের সোনার মুদ্রা এবং একটি সিল্কের শাড়ি উপহার পাবেন। এই ব্যবস্থার জন্য রাজ্য বাজেটে ৮১২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উভয় প্রকল্প মিলিয়ে মোট বাজেটে ১,৩৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তামিলনাড়ু সরকার এই দুটি প্রকল্পের পাশাপাশি অন্যান্য সামাজিক উদ্যোগও প্রসারিত করছে।