পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: বরাক উপত্যকাকে অসম থেকে পৃথক করার দাবির মধ্যেই এবার উজানি বা আপার অসম ভাঙার দাবি জোরদার হতে শুরু করল। পৃথক ‘অহোম ল্যান্ড’ গঠন ছাড়া উজানি অসমের ভবিষ্যৎ সুরভার কোনও বিকল্প নেই। এমন স্লোগান তুলে তাই-অহোম যুব পরিষদ ধারাবাহিক আন্দোলনের পথে নামল।

পরিষদের কর্মকর্তারা দুলিয়াকানে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান, প্রতিটি জেলা সদরে এবং বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে রাজ্যের সব মন্ত্রী ও বিধায়কদের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে তাই-অহোম যুব পরিষদ। অহোমদের প্রথম রাজধানী টিপামর থেকে আন্দোলন শুরু হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই দিসপুর ঘেরাও কর্মসূচি করা হবে।

তাইপা-র কেন্দ্রীয় সভাপতি বিজয়চন্দ্র রাজকোঁতর জানান, বর্তমান আহোম জাতির সঙ্গে অসমের অন্যান্য স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে কোণঠাসা করে রাখা হচ্ছে। তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক কোনও অধিকার নেই বললেই চলে। এমনকী নিজেদের ভূমি ও বসতবাড়িতে নিশ্চয়তা নেই। যখন-তখন বিভিন্ন অজুহাতে তাদের জায়গা-জমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সুতরাং উজান অসমে বসবাসকারী অহোমদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য পৃথক আহোম ল্যান্ড গঠন ছাড়া বিকল্প পথ নেই।

বিজয়চন্দ্র জোরের সঙ্গে বলেন, ‘জাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এবার সংগ্রাম হবে শেষ সংগ্রাম।’ তিনি বলেন,অসমে বিভিন্ন দলের সরকারগুলি বিগত ৪০ বছর ধরে আহোম-সহ ছয় জনগোষ্ঠীকে জনজাতিকরণের নামে শুধু প্রতারণা করে এসেছে। এখন শুরু হয়েছে গুয়াহাটি সংলগ্ন সিলসাঁকোতে স্থানীয় অসমিয়াদের উচ্ছেদ করা। এসব আর মেনে নেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি তৈরি হয়েছে।
অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে দিসপুর ঘেরাও করা হবে।

বিজয় রাজকোঁওর আরও জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রতিটি জেলার বৌদ্ধিক মহলের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। এইসব আলোচনায় বিভিন্ন গ্রেফতার ও পরামর্শ উঠে এসেছে। তাই পা এই সব পরামর্শ গ্রহণ করেছে। পৃথক আহোমল্যান্ড গঠনের দাবি সম্বলিত ১ লক্ষ পুস্তিকা ছাপা হয়েছে। তাতে আহোম ল্যান্ডের মানচিত্রও রয়েছে।