পুবের কলম, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার বিকেলে ইস্তেহার প্রকাশ করেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাশে ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের ইস্তেহারের নাম রাখা হয়েছে ‘প্রতিজ্ঞা’, যেখানে রাজ্যের উন্নয়নকে সামনে রেখে ১০টি বড় অঙ্গীকারের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হিসেবে আগামী দিনে রাজ্যে ৭টি নতুন জেলা গঠনের পরিকল্পনা সামনে এনেছে দল।

প্রশাসনিক চাপ কমানো এবং পরিষেবা আরও সহজলভ্য করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন জেলার তালিকায় রয়েছে কান্দি, বহরমপুর, বিষ্ণুপুর, সুন্দরবন, রানাঘাট, ইছামতি ও বসিরহাট।
 
ইস্তেহারে আরও জানানো হয়েছে, রাজ্যের ভৌগোলিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে পুরসভার সংখ্যাও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি আগামী দিনে ১০ লক্ষ কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পদক্ষেপ হিসেবে চালু হবে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ প্রকল্প।
ইতিমধ্যেই ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির সাফল্যের উপর ভিত্তি করেই এবার স্বাস্থ্য পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু থাকছে এবং আরও অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবাও যুক্ত হবে।
 
শিক্ষাক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কয়েক হাজার স্কুলে আধুনিকীকরণ, ই-লার্নিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মমতার কথায়, “শিক্ষার অধিকার বাংলার সবার।
” সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিকেও আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের মাধ্যমে সকলের জন্য পাকা বাড়ির ব্যবস্থা, ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে মাসিক আর্থিক সহায়তা, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-সহ বিভিন্ন ভাতা চালু ও বকেয়া মেটানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
 
এছাড়া রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ নজর দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে ইস্তেহারে—যেখানে তাঁদের যত্ন ও সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ইস্তেহারটি একাধিক ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে রাজ্যের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়। সব মিলিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান থেকে প্রশাসনিক পুনর্গঠন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটের আগে নিজেদের রূপরেখা স্পষ্ট করল তৃণমূল কংগ্রেস।