পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ভবিষ্যৎ যুদ্ধে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দিয়ে বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৃহস্পতিবার 'ন্যাশনাল ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ কনক্লেভ'-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতকে দেশীয় ড্রোন উৎপাদনের বিশ্বজনীন কেন্দ্রে উন্নীত করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
 
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং ইরান-ইজরায়েল পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধগুলি প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ভবিষ্যৎ সমরকৌশলে ড্রোন এবং 'কাউন্টার-ড্রোন' প্রযুক্তির ভূমিকা অপরিসীম। তিনি স্পষ্ট করেন, দেশের প্রতিরক্ষা ইকোসিস্টেম মজবুত করতে বড় শিল্পসংস্থা, এমএসএমই এবং স্টার্টআপগুলোর পাশাপাশি সরকারের সঠিক নীতিগত দিকনির্দেশনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।


 
রাজনাথ সিং কেবল ড্রোন অ্যাসেম্বলিং নয়, বরং এর প্রতিটি খুচরো যন্ত্রাংশ বা কম্পোনেন্ট ভারতেই তৈরির ডাক দিয়েছেন। তাঁর কথায়, "আমাদের এমন একটি ড্রোন উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেখানে ভারত সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর হবে। শুধু পণ্য হিসেবে নয়, ড্রোনের ছাঁচ, সফটওয়্যার, ইঞ্জিন এবং ব্যাটারি—সবই যেন ভারতে তৈরি হয়।" তিনি আরও বলেন, এই কাজ সহজ নয়।
কারণ বিশ্বের অধিকাংশ ড্রোন উৎপাদনকারী দেশই বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের জন্য চিনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং কৌশলগত স্বাধীনতার স্বার্থে এই বিদেশি নির্ভরতা কাটিয়ে ওঠা জরুরি।
 
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দেশের উদ্ভাবক এবং শিল্পপতিদের 'মিশন মোডে' কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দেন, ড্রোন তৈরিতে আত্মনির্ভর হওয়ার এই লড়াইয়ে সরকার সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে। ভারতকে ২০৩০ সালের মধ্যে ড্রোনের প্রধান উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে গড়ে তোলাই এখন কেন্দ্রের লক্ষ্য।