মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ ২০তম দিনে আরও বিস্তৃত আকার নিয়েছে। শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ড এবং জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে।ইসরাইল বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্সে হামলা চালানোর পরপরই ইরান কাতার, সউদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইসরাইলকে “মূল্য দিতে হবে” বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইসরাইল প্রথমবারের মতো উত্তর ইরানেও হামলা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
ইরানের হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে, যা বিশ্বে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এর জেরে কাতার ইরানি দূতাবাসের সামরিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সউদি আরব সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের ওপর তাদের “অবশিষ্ট আস্থা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে” এবং হামলা বন্ধ না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।বাহরাইন জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ১৩২টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৩৪টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ডের বিরুদ্ধে ইরান সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় আবার হামলা হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যয় কমাতে তিনি সাময়িকভাবে পুরোনো শিপিং আইন শিথিল করেছেন।
ইসরাইল উত্তর ইরানে নতুন করে হামলা জোরদার করেছে। পাশাপাশি লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। বিকল্প পথে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।