পুবের কলম, কালীগঞ্জ: নদিয়ার কালীগঞ্জ-এ প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে তীব্র অশান্তির জেরে কঠোর পদক্ষেপ নিল সিপিএম। দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় সাত জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। জেলা সম্পাদক মেঘলাল শেখ এক বিবৃতিতে জানান, সইদুল শেখ, সেন্টু শেখ, জহিরউদ্দিন আহমেদ, অজয় সরকার, মোদস্‌সের মীর, এম রহমান এবং হানিফ মহম্মদ—এই সাত জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগ, প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর তাঁরা দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।

চেয়ার-টেবিলসহ একাধিক আসবাবপত্র নষ্ট করা হয়, যা প্রকাশ্যে এনে দেয় দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব।

উল্লেখ্য, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু প্রথম দফায় ১৯২টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। সেই তালিকায় কালীগঞ্জ কেন্দ্র থেকে তমন্না খাতুনের মা সাবিনা ইয়াসমিনকে প্রার্থী করা হয়, যা ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। গত বছর উপনির্বাচনের সময় বোমার আঘাতে নিহত হয় ন’বছরের তমন্না খাতুন।

সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁর পরিবার রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় ছিল। এবার তাঁর মাকে প্রার্থী করায় স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ তৈরি হয় দলের একাংশের মধ্যে। প্রার্থী ঘোষণার দিনই কালীগঞ্জে সিপিএমের কার্যালয় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়, কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এই ঘটনার পর তিন দিনের মাথায় বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে দল স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইল—শৃঙ্খলাভঙ্গ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।