দেশজুড়ে রান্নার গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে উদ্বেগের আবহে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল কেন্দ্রীয় সরকার। একদিকে গ্যাস সরবরাহে চাপের কথা স্বীকার করা হয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংঘাতের জন্য পরোক্ষভাবে ইরান ও ইজরায়েল-কে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে ‘প্যানিক বুকিং’-এর কারণে সাময়িক চাপ তৈরি হলেও পরিস্থিতি এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। অধিকাংশ গ্রাহক অনলাইনের মাধ্যমে গ্যাস বুক করছেন, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।
তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব যে পড়েছে, তা স্পষ্টভাবে মেনে নিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

তাঁর কথায়, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা এবং জ্বালানি অবকাঠামোর উপর হামলার জেরে ভারতের গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে এলএনজি আমদানিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বিকল্প পথ খুঁজছে। আমেরিকা-সহ অন্যান্য দেশ থেকে গ্যাস আমদানির পাশাপাশি প্রয়োজনে রাশিয়া থেকেও এলপিজি কেনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সরকারের স্পষ্ট বার্তা— দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে বড় কোনও ঘাটতি নেই। বরং গুজবের জেরে হঠাৎ চাহিদা বাড়ায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছিল। তা সামাল দিতে উৎপাদন প্রায় ২৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কালোবাজারি ও মজুতদারি রুখতে রাজ্যগুলিকে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জ্বালানি অবকাঠামোর উপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত জানিয়েছে, এই ধরনের আক্রমণ শুধু একটি অঞ্চলের নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হুমকির জেরে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে।