পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি হত্যার পর বদলা হিসেবে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তেহরান। বৃহস্পতিবার পারস্য উপসাগরের দুই প্রধান জ্বালানি রফতানিকারক দেশ কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (UAE) গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস ও তেল পরিকাঠামোয় একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। সুপ্রিম লিডার খামেনির "প্রতিটি ফোঁটা রক্তের দাম চোকাতে হবে"– এই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এক ভয়াবহ মোড় নিল।
 
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এলএনজি (LNG) হাব কাতারের রাস লাফান কমপ্লেক্সে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ায় সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বড় ধরনের আগুন নেভাতে দমকল বাহিনীকে দীর্ঘক্ষণ লড়াই করতে হয়েছে।

যদিও সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, কোনো প্রাণহানি ঘটেনি এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে, তবে এই ক্ষয়ক্ষতির ফলে যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পরও কাতারের গ্যাস রফতানি পুনরায় শুরু করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।
 
একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর হাবশান গ্যাস ফ্যাসিলিটি এবং বাব তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রেও ইরান হামলা চালায়। যদিও আমিরশাহী দাবি করেছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝআকাশেই রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে, তবুও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ওই কেন্দ্রগুলোর সমস্ত অপারেশন আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে এই হামলার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। পারস্য উপসাগরের এই জ্বালানি লাইফলাইন আক্রান্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।