০৫ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা আমেরিকার, বাড়ছে উদ্বেগ

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পরমাণু সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা LGM‑30G Minuteman III আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের একটি পরীক্ষা চালিয়েছে, যা এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
মঙ্গলবার রাতে Vandenberg Space Force Base থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। পরীক্ষা পরিচালনা করে United States Air Force Global Strike Command। উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কয়েক হাজার মাইল অতিক্রম করে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
মার্কিন সামরিক সূত্র জানায়, এই ক্ষেপণাস্ত্র পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এবং এর শক্তি Atomic bombing of Hiroshima-এ ব্যবহৃত বোমার তুলনায় বহু গুণ বেশি হতে পারে। যদিও এবারের পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্পূর্ণ নিরস্ত্র অবস্থায় উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।
সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, নির্ভুলতা, কার্যকারিতা এবং নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা। পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটির বিভিন্ন অংশ কীভাবে কাজ করে, তা বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের আবহে এই পরীক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উভয় পক্ষ থেকেই পাল্টাপাল্টি হামলার খবর আসছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এই পরমাণু সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা আমেরিকার, বাড়ছে উদ্বেগ

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা আমেরিকার, বাড়ছে উদ্বেগ

আপডেট : ৫ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পরমাণু সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা LGM‑30G Minuteman III আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের একটি পরীক্ষা চালিয়েছে, যা এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
মঙ্গলবার রাতে Vandenberg Space Force Base থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। পরীক্ষা পরিচালনা করে United States Air Force Global Strike Command। উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কয়েক হাজার মাইল অতিক্রম করে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
মার্কিন সামরিক সূত্র জানায়, এই ক্ষেপণাস্ত্র পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এবং এর শক্তি Atomic bombing of Hiroshima-এ ব্যবহৃত বোমার তুলনায় বহু গুণ বেশি হতে পারে। যদিও এবারের পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্পূর্ণ নিরস্ত্র অবস্থায় উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।
সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, নির্ভুলতা, কার্যকারিতা এবং নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা। পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটির বিভিন্ন অংশ কীভাবে কাজ করে, তা বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের আবহে এই পরীক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উভয় পক্ষ থেকেই পাল্টাপাল্টি হামলার খবর আসছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এই পরমাণু সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।