ভোপাল, ২৪ জানুয়ারি: বিহারের পদাঙ্ক অনুসরণ মধ্যপ্রদেশের। রাজ্যের ১৭ টি ‘ধর্মীয়’ শহরে নিষিদ্ধ হওয়ার পথে মদ। শুক্রবার মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জরুরি বৈঠকের পর সুরা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে মন্ত্রিসভাও। ফলস্বরূপ আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে রাজ্যের ১৭ শহরে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে মদ বিক্রি।
শুধু তাই নয়, উক্ত ১৭ টি শহর ছাড়াও বিহারের মতো ধাপে ধাপে গোটা রাজ্যে মদ নিষিদ্ধ হবে বলেও এদিন জানানো হয়।আরও পড়ুন:
যে ১৭টি শহরে মদ বাতিল করা হচ্ছে সেগুলি হল, উজ্জয়িনী, অমরকণ্টক, মহেশ্বর, ওর্চা, ওমকালেশ্বর, মাণ্ডলা, মূলতাই, মাণ্ডলার নর্মদাঘাট, জবলপুর, চিত্রকূট, মৈহার, সলকানপুর, মাণ্ডলেশ্বর, মন্দসোর, বার্মান, পান্না-সহ বেশ কিছু জায়গা। এমনকি এই ১৭টি শহরের সমস্ত পুরসভা বা পঞ্চায়েত এলাকায় আর কোনও মদের দোকান থাকবে না। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী , উক্ত এলাকায় থাকা মদের দোকানগুলি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। এমনকি সেইগুলো কোনওভাবেই অন্যত্র স্থানান্তরিতও করা যাবে না।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব আরও জানান, "ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও পুরুষোত্তম রাম মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন তাঁদের চরণধূলি দিয়েছিলেন। তাই তাদের চরণচিহ্ন থাকা কোনও স্থানে সুরা পানের আসর বসানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। আগেই মধ্যপ্রদেশ সরকারের তরফে নর্মদা তীরবর্তী জনপদের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে মদ বিক্রি করা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্ত বহাল রাখার বিষয়েও সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বস্তুত, প্রায় ৩ দশক ধরে সেরাজ্যে মদ নিষিদ্ধকরণের দাবি উঠে আসছে।
আরও পড়ুন:
দিগ্বিজয় সিংহের কংগ্রেস সরকারের সময়েও এই দাবি তুলেছিলেন তাঁরই দলের বিধায়ক সুভাষ যাদব। যা নিয়ে দলীয় কোন্দল ছিল চোখে পড়ার মতো। মোটের উপর বিষয়টি নিয়ে সেই সময়ে মধ্যপ্রদেশে বেশ হইচই হয়েছিল। পরে উমা ভারতী মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন অমরকণ্টক এবং মহেশ্বর শহরে মদ এবং মাংসের বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিলেন। পরে শিবরাজ সিংহ চৌহান ওই নিষেধাজ্ঞার পরিধি উজ্জয়িনী-সহ আরও কিছু শহরে বর্ধিত করেন।