মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে নিজেদের কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে তৎপর হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সব দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে অবিলম্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বাক্ষরিত এক জরুরি বার্তায় জানানো হয়েছে, প্রতিটি মিশনকে তাদের অভ্যন্তরীণ জরুরি কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে সম্ভাব্য হুমকি চিহ্নিত করতে হবে এবং বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল্যায়ন করতে হবে।
ইরান-কে ঘিরে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম বিশ্বজুড়ে একযোগে এমন সতর্কতা জারি করা হলো।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনার ওপর একাধিক হামলার ঘটনাই এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে ইরাক-এ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি শতাধিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর। এছাড়া রিয়াদ-এ মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা, টরন্টো-তে কনস্যুলেটের সামনে গুলিবর্ষণ এবং অসলো-তে বিস্ফোরণের মতো ঘটনাও সামনে এসেছে।
এসব ঘটনার ফলে স্পষ্ট হয়েছে, এই সংঘাত আর নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্বার্থ ও নাগরিকদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

এদিকে, ইসরায়েল-এ নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকদের আবাসনের কাছেও একটি অবিস্ফোরিত ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ এসে পড়ার ঘটনা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। যদিও এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবুও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই একাধিক দেশ থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কিছু মিশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টার খবরও মিলেছে, যা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
যদিও পররাষ্ট্র দপ্তর এই নিরাপত্তা পর্যালোচনা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চায়নি, তবুও তারা জানিয়েছে—নির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য হুমকি সামনে এলে তা নাগরিকদের জানানো হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মার্কিন নাগরিক ও কূটনীতিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন ওয়াশিংটন-এর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।