পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে একের পর এক প্রশাসনিক রদবদলকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ এবং ‘ঘোষণাহীন রাষ্ট্রপতি শাসন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই নজিরবিহীনভাবে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি, এডিজি, আইজি, ডিআইজি, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার-সহ ৫০-এরও বেশি শীর্ষ আধিকারিককে হঠাৎ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এটি কোনও স্বাভাবিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং এর পিছনে রয়েছে সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।
 
কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

মমতার কথায়, যে সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ থাকার কথা, সেগুলির উপর পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হচ্ছে, যা সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাতের সামিল।
ভোটার তালিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখনও সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি, ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকদের বেছে বেছে সরিয়ে রাজ্যের বাইরে পাঠানো হচ্ছে, যা প্রশাসনকে দুর্বল করার ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি, কিছু পুলিশ কমিশনারকে অন্য রাজ্যের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে হঠাৎ পরিবর্তন আনার ঘটনাকেও ‘স্ববিরোধী’ ও ‘অদক্ষতার নিদর্শন’ বলে কটাক্ষ করেছেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, আগাম বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিকে সাময়িকভাবে নেতৃত্বহীন করে ফেলা হয়েছে, যা প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলারই উদাহরণ।