ইনামুল হক, বারাসত:  ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও নীলকর ইংরেজদের অত্যাচারের  বিরুদ্ধে  দরিদ্র চাষীদের  নীল বিদ্রোহ তথা কৃষক বিদ্রোহ ও মুক্তি সংগ্রামের পথিকৃৎ সৈয়দ মীর নিসার আলি ওরফে তিতুমীরের পুণ্য স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে  উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রাচীন জনপদ বারাসতকে ঘিরে।

নীলকর ইংরেজ দের বিরুদ্ধে নীল বিদ্রোহের সময় তিতুমীরের নেতৃত্বে যে আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল ইতিহাসে তা 'বারাসত বিদ্রোহ' নামে পরিচিত। যার অন্তিম পরিণতি ঘটে নারকেলবেড়িয়ার বাঁশের কেল্লার অসম যুদ্ধে তিতুমীর ও তার সঙ্গী সাথীদের শহিদ হওয়ার মধ্য দিয়ে।

প্রসঙ্গত, স্বাধীনতার পর এই বাংলায় শহিদ তিতুমীরের নামে উল্লেখযোগ্য কিছু না হলেও  গত শতকের নয়ের দশকে জেলাসদর বারাসতের যশোর রোড ও টাকী রোডের সংযোগ স্হল চাঁপাডালি মোড়ের বাস টার্মিনাসটি সংস্কার করে সরকারিভাবে নামকরণ করা হয়  তিতুমীর বাস টার্মিনাস। লাগানো হয় নামফলকও।  কয়েক বছরের মধ্যে সেই নামফলক উধাও হয়ে তোরণে বসে যায় বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্হার বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং।

২০১৮ সালে এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ায় নড়েচড়ে বসে জেলা পরিষদ। তৎকালীন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের পু্র্ত ও পরিবহন কর্মাধ্যক্ষ নারায়ণ গোস্বামীর  হস্তক্ষেপে সেসময়ই  খুলে ফেলা হয় সেই বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং। সেই সঙ্গে দু'দিকের তোরণে  তিতুমীরের নামাঙ্কিত ফলক  আবার লাগানো হয়। দুর্ভাগ্য হলেও সত্যি সংস্কারের অভাবে সেই বোর্ডদুটিও মলিন হয়ে ক্রমে মুছে যাওয়ায় তার উপরে ফের বসে গেছে বাণিজ্যিক সংস্হার সাইন বোর্ড।

উল্লেখ্য, এই বাস টার্মিনাস থেকে শহর কলকাতা, হাওড়া সহ বিভিন্ন জেলার সদর,  শহরতলি ও গুরুত্বপুর্ণ জায়গাগুলিতে সরকারি ও বেসরকারি বাস ছাড়া হয়। এখান থেকেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যেও  বিভিন্ন  এলাকায় চলাচল করে বহু  সরকারি ও বেসরকারি বাসও।

  কিন্তু বর্তমানে কোন নাম ফলক না থাকায় এটি মুখে মুখে চাঁপাডালি বাস স্ট্যান্ড হিসেবে চালু হয়ে গিয়েছে।

এখন খাতায়-কলমে থাকলেও বাসস্ট্যান্ডে এসে তিতুমীরের নাম খুঁজে ফেরে অনেকেই।যা নিয়ে জনমানসে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সোস্যাল মিডিয়াতে  এ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে  বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া শোনা বা দেখা গেলেও  কোন উদ্যোগ নেওয়া হয় নি। স্বাভাবিক ভাবে শহিদ তিতুমীর এর প্রতি সম্মান জানিয়ে নামফলক দুটিকে ফের লাগানোর জন্য দাবি উঠেছে । শহিদ তিতুমীরের স্মৃতিতে  নাম ফলক লাগানোর দাবি জানানো হয়েছে   নারকেলবেড়িয়ার শহিদ তিতুমীর মিশন তরফেও।

  এ ব্যাপারে শহিদ তিতুমীর মিশনের সম্পাদক রবিউল হক বলেন, আমাদের জেলার গর্ব দরিদ্র কৃষকদের লড়াকু নেতা, স্বাধীনতা সংগ্রামী শহিদ তিতুমীরকে ভুলিয়ে দেওয়ার এটি অন্যতম একটি প্রচেষ্টা। তার স্মৃতিতে নতুন কিছু করা তো দূরের কথা, যতটুকু আছে সেটাও মুছে দেওয়ার এই অভ্যাসটা  বন্ধ হওয়া দরকার।

অবিলম্বে বারাসতের তিতুমীর বাস টার্মিনাসের নাম ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি। অন্যদিকে এই বাস টার্মিনাসে বাণিজ্যিক সংস্থার বিজ্ঞাপন লাগানোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পুর প্রধান অশনি মুখোপাধ্যায় বলেন, এটা জেলা পরিষদ দেখভাল করে। জেলা পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। উত্তর  ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের  সভাধিপতি নারায়ণ  গোস্বামী বলেন, শহিদ তিতুমীর আমাদের ঐতিহ্যের ধারক।

কেবল বাস টার্মিনাস নয়, তিতুমীরের জীবন ও ইতিহাস তুলে ধরে বারাসতের জেলাপরিষদ সভাগৃহকেও সাজানো হবে।শহিদ তিতুমীরকে  বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ বদ্ধপরিকর। প্রতিশ্রুতি যাই হোক এখন বারাসাতে তিতুমীর বাস টার্মিনাসের নাম ফলক দুটি ফের কবে লাগানো হবে সেই অপেক্ষায় তিতুমীরপ্রেমী বাসিন্দারা।