বাংলার বিধানসভা ভোটের প্রচারে এসে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। শনিবার পুরুলিয়ার আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় একাধিক নির্বাচনী সভা থেকে তিনি দাবি করেন, বিজেপি আদিবাসী ও দলিত সমাজের জন্য বিপজ্জনক। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “বিজেপি ভয়ংকর, বাংলায় ওদের আটকান।”
আরও পড়ুন:
তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থনে প্রচারে এসে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) নেতা বলেন, বিজেপি ধর্ম ও জাতিগত বিভাজন তৈরি করে রাজনীতি করে। তাঁর অভিযোগ, “বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়তে বিজেপি হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ তৈরি করেছে, আদিবাসীদের মধ্যেও ভেদাভেদ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে।
এখন তারা দেশ ভাগের রাজনীতিতে নেমেছে।”আরও পড়ুন:
শনিবার পুরুলিয়ার কাশীপুর, মানবাজার ও বান্দোয়ানে তৃণমূল প্রার্থী সৌমেন বেলথরিয়া, সন্ধ্যারানি টুডু এবং রাজীবলোচন সোরেনের সমর্থনে পরপর তিনটি সভা করেন হেমন্ত। সভাস্থলে বিপুল জনসমাগম হয়। তৃণমূল ও জেএমএম কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে আদিবাসী সমাজের ঐতিহ্যবাহী ধামসা-মাদলের তালে সরগরম হয়ে ওঠে সভাস্থল।
আরও পড়ুন:
নিজের বক্তব্যে হেমন্ত সোরেন বলেন, “বিজেপি ভোটের সময় ভালো ভালো কথা বলে, কিন্তু ওদের মুখে মধু আর বগলে ছুরি।
আদিবাসী, দলিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের ওপর অত্যাচারের ইতিহাস রয়েছে ওদের।” তিনি আরও বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে আদিবাসীদের অধিকার বারবার খর্ব হয়েছে এবং সেই অভিজ্ঞতা ঝাড়খণ্ডের মানুষ নিজেরাই দেখেছে।তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির প্রশংসা করে হেমন্ত বলেন, “মমতাদিদি বাংলার আদিবাসী মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকেছেন। তাঁর সরকার সাধারণ মানুষ, আদিবাসী ও দলিতদের জন্য অনেক কাজ করেছে। তাই বাংলার আদিবাসী সমাজের উচিত তৃণমূলের পাশে থাকা।”
আরও পড়ুন:
আদিবাসী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা বিরসা মুণ্ডা, সিধো-কানহু, ফুল-ঝানোর উত্তরসূরি। আমরা লড়াই করতে জানি। তাই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে হবে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীকে প্রচারে এনে আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে চাইছে তৃণমূল। বিশেষ করে পুরুলিয়ার মতো আদিবাসী অধ্যুষিত জেলায় হেমন্ত সোরেনের উপস্থিতি নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই সভার মাধ্যমে তৃণমূল স্পষ্ট বার্তা দিল যে, আদিবাসী ভোটে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তারা সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে। আর হেমন্ত সোরেনের কড়া ভাষণের মূল বার্তা একটাই— বাংলায় বিজেপিকে রুখতে হবে।