মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনী আপাতত প্রত্যাহার করা হবে না। একই সঙ্গে তেহরান ওয়াশিংটনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে ‘অভূতপূর্ব’ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন,  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা, যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ‘বাস্তব চুক্তি’ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইরান ও তার আশপাশের এলাকায় অবস্থান করবে।
একই পোস্টে আরও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যদি কোন কারণে তা বাস্তবায়িত না হয়… তাহলে ‘গুলি শুরু হবে’, যা হবে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়, শক্তিশালী এবং ভয়াবহ।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির একদিন পর।
ছয় সপ্তাহের সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা সাময়িকভাবে বিশ্ব বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমে আসে।
তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি সেই স্বস্তিকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

তাদের মতে, ট্রাম্পের কথার কোনো ঠিক নেই। ফলে এই যুদ্ধবিরতি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। তিনি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো দাবিগুলো পুনর্ব্যক্ত করেছেন। 
ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন ট্রাম্প। তিনি এও বলেছেন, মার্কিন বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। আবার এটিও উল্লেখ করেছেন, তারা বিশ্রাম করছে কিন্তু পরবর্তী অভিযানের অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার ইরানে আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ ও তাসনিম নিউজ এজেন্সি একটি চার্ট প্রকাশ করে। এতে দাবি করা হয়, যুদ্ধ চলাকালে দেশটির আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালীতে নৌ-মাইন স্থাপন করেছিল।

চার্টটিতে ফারসি ভাষায় ‘বিপজ্জনক এলাকা’ চিহ্নিত একটি বড় বৃত্ত দেখানো হয়, যা জাহাজ চলাচলের নির্ধারিত পথ—ট্রাফিক সেপারেশন স্কিমের ওপর অবস্থিত। এতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, জাহাজগুলোকে প্রণালীর মধ্য দিয়ে চলার সময় আরও উত্তরে, ইরানের মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি লারাক দ্বীপ সংলগ্ন জলপথ ব্যবহার করতে হতে পারে। যুদ্ধ চলাকালে কিছু জাহাজকে এই বিকল্প পথ ব্যবহার করতেও দেখা গেছে।
চার্টটির সময়সীমা ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে এরপর ওই রুটে স্থাপিত মাইন অপসারণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের মাটিতে বাস্তবতা ভিন্ন। সেখানে সন্দেহ আর অনিশ্চয়তাই প্রধান সুর। তেহরানের অনেক বাসিন্দা প্রশ্ন তুলছেন, মার্কিন  যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি আর অঞ্চলে ইসরাইলের বর্তমান সামরিক অভিযানের ছায়ায় কূটনীতি আদৌ টিকে থাকতে পারে কি না।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক মহিলা  বলেন, একটা দিনও যদি হত্যা আর রক্তপাত ছাড়া কাটে, সেটাই আমাদের জন্য অনেক বড় বিষয়। এতে আমরা খুশি হব। আল্লাহর কসম, এত হত্যাকাণ্ড দেখে আমি এতটাই ভেঙে পড়েছিলাম যে নিজের ঘরেও থাকতে পারিনি।
আরেকজন পুরুষ সরাসরি এই যুদ্ধবিরতিকে অগ্রাহ্য করেন। তিনি বলেন, লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত হামলার দিকে তাকাতেই হবে। আমাদের শহীদ নেতাকে এখনও  দাফনই করা হয়নি, আর যুদ্ধের নিয়ম লঙ্ঘন চলছেই। এ অবস্থায় যুদ্ধবিরতির কোন অর্থই নেই।
তৃতীয় এক বাসিন্দা আরও স্পষ্ট করে বলেন, এটা পুরোই ট্রাম্পের সাজানো নাটক। এই যুদ্ধবিরতিতে আমাদের কোন বিশ্বাস নেই।