জিশান আলি মিঞা, মুর্শিদাবাদঃ অপেক্ষা ছেলেকে একবার শেষবারের মতো দেখা। ছেলে ফিরল, তবে কফিনবন্দি হয়ে। ঘড়ি কাঁটা বলছে দুপুর ১২টা। ঠিক তখন অসম রাইফেলসে মৃত জওয়ান শ্যামল দাসের দেহ এসে পৌঁছল মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের কীর্তিপুরগ্রামে।
না, ছেলেকে এইভাবে দেখার প্রতীক্ষা কোনওদিনই করেননি শ্যামলের বাবা-মা, স্ত্রী আর গোটা কীর্তিপুর গ্রাম। সোমবার দুপরে যখন ছেলের দেহ ফিরল তখন বাড়ির চারিদিকে ভিড়, আর ঘরের ভিতরে কান্নার রোল।আরও পড়ুন:

ঘটনার প্রায় ৫০ ঘন্টা পর পানাগড় সেনাঘাঁটি থেকে ওই জওয়ানের মরদেহ গ্রামে এসে পৌঁছায়। জওয়ানের কফিন আঁকড়ে শ্যামল দাসের স্ত্রী'র সুপর্ণা বলেন, 'ওর মুখটাও ঠিকমত দেখতে পেলাম না।
এদিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গান স্যালুটের মাধ্যমে জওয়ান শ্যামল দাসকে শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তাঁর সহকর্মীরা।
আরও পড়ুন:
নাতনি– বৌমার ভবিষ্যৎ কি হবে সেই কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন জওয়ানের বাবা ধীরেন দাস।
আরও পড়ুন:
সোমবার রাজ্যসরকারের পক্ষ থেকে ওই জওয়ানকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও পরিবারকে সমবেদনা জানাতে যান রাজ্যের মন্ত্রী আখরুজ্জামান– মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক শরদ কুমার দ্বিবেদী প্রমুখ। পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন:

প্রসঙ্গত, শনিবার মণিপুর মায়ানমার সীমান্তে চূড়াচাঁদপুর জেলায় সামরিক কনভয়ে জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয়েছিল এক সেনা কর্তা সহ মোট সাত জনের। তাদের মধ্যে ছিলেন মুর্শিদাবাদের খড়গ্রাম থানার কীর্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা বছর পঁয়ত্রিশের শ্যামল দাস।
প্রায় এগারো বছর আগে অসম রাইফেলসে যোগ দেন শ্যামল দাস। পুজোর আগে ছুটিতে বাড়িতেও এসেছিলেন তিনি। জঙ্গি হামলা প্রাণ কেড়ে নিল শ্যামলের।
রবিবার ওই বাড়িতে গিয়ে শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় বিধায়ক আশিস মার্জিত– বহরমপুর মুর্শিদাবাদ ইউনিটের তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী শাওনি সিংহ রায় প্রমুখ। এদিন ওই জওয়ানের বাড়িতে যান জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান– তৃণমূল নেতা সোহরাব হোসেন প্রমুখ।