পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রণদামামা বাজিয়ে দিলেন কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার পাঞ্জাবের বার্নালায় আয়োজিত ‘মনরেগা বাঁচাও সংগ্রাম র্যালি’ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে বেনজির আক্রমণ শানালেন তিনি। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে ভারতীয় কৃষকদের জন্য ‘ডেথ ওয়ারেন্ট’ বা মৃত্যুপরোয়ানা বলে অভিহিত করেছেন রাহুল। একইসঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল রুখতে পাঞ্জাব কংগ্রেসের নেতাদের কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
বার্নালার জনসভায় রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, দীর্ঘ চার মাস ধরে থমকে থাকা ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ কেন সই করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “যে কাজ চার মাস থমকে ছিল, প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ ১৫ মিনিটের মধ্যে তা কেন করে ফেললেন? কার চাপে তিনি দেশের কৃষকদের মৃত্যুপরোয়ানায় সই করলেন?” রাহুলের দাবি, এই চুক্তির ফলে ভারতের কৃষিক্ষেত্র মার্কিন পণ্যের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে। এর ফলে হিমাচল প্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা থেকে শুরু করে ওড়িশা—সব রাজ্যের কৃষকরাই চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বছরে ৯ লক্ষ কোটি টাকার পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকেও ধ্বংস করবে।
এদিনের সভা থেকে প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরভানের একটি অপ্রকাশিত বইয়ের প্রসঙ্গ টেনে মোদী সরকারকে বিঁধেছেন রাহুল। তিনি দাবি করেন, সীমান্তে চিনা সেনার গতিবিধির সময় রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। রাহুলের কথায়, “নরভানে প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন গুলি চালানোর অনুমতি আছে কি না। দু-ঘণ্টা কোনো জবাব আসেনি। এরপর বলা হয়, তিনি যা সঠিক মনে করেন তাই যেন করেন।” এই ইস্যুতেই তাঁকে লোকসভায় বলতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশে রাহুলের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কে সি বেণুগোপাল, ভূপেশ বাঘেল, পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, প্রতাপ সিং বাজওয়া এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নি ও রাজিন্দর কৌর ভট্টল। আসন্ন নির্বাচনে দলকে একজোট করাই যে এখন হাইকম্যান্ডের মূল লক্ষ্য, এদিনের সভা থেকে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাহুল।





























