ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক উদ্যোগে আশানুরূপ সাফল্য না মেলায় তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্ত মানতে রাজি হচ্ছে না ইরান। এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতির আবহে তাঁর এই মন্তব্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, “যুদ্ধে সব সময়ই ঝুঁকি থাকে। আমাদের সেনাবাহিনী বিশ্বের শ্রেষ্ঠ।
আমি তাদের ব্যবহার করতে চাই না, কিন্তু কখনও কখনও তা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে জানান, সম্ভাব্য কোনো হামলা হলেও তা ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নেবে না। তাঁর দাবি, বর্তমান প্রশাসন অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছে এবং কূটনীতিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।
তবে সবকিছু নির্ভর করছে ইরানের পরবর্তী অবস্থানের ওপর। হামলা হলে তার লক্ষ্য হবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, দীর্ঘ যুদ্ধ নয়। এই উত্তেজনার মধ্যেই আগামী সোমবার ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর সফরের আগে ইসরায়েল থেকে জরুরি নয় এমন মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্বই স্পষ্ট করছে। এদিকে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠক করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চললেও এখনো কার্যকর সমাধানের কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। কূটনৈতিক পথ ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হচ্ছে।