পুবের কলম, তিরুবনন্তপুরম: “সংবিধান দ্বারা পরিচালিত গণতন্ত্রে অবস্থান-ধরণা, অনশন বা সত্যাগ্রহের মতো কর্মসূচির কোনো স্থান নেই, আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তো নয়ই”—একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে এই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল কেরল হাইকোর্ট। কালডির শ্রী শংকরাচার্য সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে হেনস্থা ও ‘প্রতীকী শেষকৃত্য’ পালনের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত ১৬ জন ছাত্রকে পরীক্ষায় বসার অনুমতি সংক্রান্ত সিঙ্গেল বেঞ্চের অন্তর্বর্তী নির্দেশ বাতিল করে এই মন্তব্য করেছে ডিভিশন বেঞ্চ।

বিচারপতি অনিল কে নরেন্দ্রন এবং বিচারপতি মুরালী কৃষ্ণ এস-এর ডিভিশন বেঞ্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের আপিল মঞ্জুর করে ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হতে চলা পরীক্ষায় ছাত্রদের বসার আর্জি নামঞ্জুর করে দেয়। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ও আন্দোলনমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত শিক্ষার্থীরা নিজেদের বহিস্কার বা রাসটিকেট করার ঝুঁকি নিজেরাই তৈরি করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যা অর্জনের জায়গা, রাজনীতি করার ক্ষেত্র নয়।

রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের স্বার্থে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার অধিকার জিম্মি করতে পারে না। একইসঙ্গে আদালতের নির্দেশে ১৯৪৯ সালের ২৫ নভেম্বর সংবিধান পরিষদে দেওয়া ড. বি আর আম্বেদকরের বিখ্যাত ভাষণের উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কালডি ক্যাম্পাসে সিন্ডিকেটের বৈঠক চলাকালীন অভিযুক্ত ১৬ জন শিক্ষার্থী উপাচার্য সিজা থমাসের বিরুদ্ধে ‘প্রতীকী শেষকৃত্য’ পালন করে এবং তিনি দপ্তর ছেড়ে বেরোনোর সময় তাঁকে পথ আটকে হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। কালডি থানায় এ বিষয়ে দুটি এফআইআর রজু হয়। ১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করে।

শিক্ষার্থীরা অবশ্য দাবি করেছিল, ক্যাম্পাসের অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আন্দোলন করার জন্য তাঁদের ওপর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং উপাচার্যের শেষকৃত্য পালনের কথা তারা অস্বীকার করে।

বিশ্ববিদ্যালয় আদালতে যুক্তি দেয়, ২৩ অক্টোবরের মধ্যে পরীক্ষার আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন থাকলেও শিক্ষার্থীরা আবেদন করেনি। তা ছাড়া ১৬ জনের মধ্যে ৬ জন পিএইচডি গবেষক, যাঁদের পরীক্ষা সংক্রান্ত এই বিজ্ঞপ্তির আওতায় পড়ার কথা নয়। বাকিদেরও পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৮০ শতাংশ উপস্থিতি এবং ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্ট সম্পূর্ণ ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই যৌক্তিকতা মেনে নিয়েই সিঙ্গেল বেঞ্চের অন্তর্বর্তী আদেশ রদ করে ডিভিশন বেঞ্চ।