যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির খারাপ ফলাফলের পেছনে ইরান যুদ্ধের ভূমিকা ছিল বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরান যুদ্ধ নির্বাচনে প্রভাব ফেললেও ভবিষ্যতে এই সামরিক পদক্ষেপের গুরুত্ব আরও বেশি করে উপলব্ধি করবেন মার্কিন নাগরিকরা।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি, এর একটি অংশ ছিল ইরান। তবে মানুষ ইরানের বিরুদ্ধে আমার পদক্ষেপের গুরুত্বও বুঝতে পেরেছে। বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক দেশকে কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দেওয়া যায় না।

”

নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছিল। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বহু মার্কিন নাগরিক প্রশ্ন তুলেছিলেন। এমনকি ট্রাম্পের সমর্থক শিবিরেও এই যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “আমি কিছুটা অবাক হয়েছি। ভেবেছিলাম, তারা আরও ভালো ফল করবে।

” নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে প্রায় ৩০টি জনসভা করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর আশা ছিল, জনসভায় আসা বিপুল সংখ্যক মানুষকে ভোটের মাধ্যমে প্রার্থীদের সমর্থনে উৎসাহিত করতে পারবেন।

অন্যদিকে, নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এবং প্রতিনিধি পরিষদেও এগিয়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কিছু রিপাবলিকান প্রার্থী জয়ী হলেও কয়েকজনের পরাজয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।

নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের ভূমিধস জয়ের আশা প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর তিনি তা মেনে নেওয়ার কথা জানান। আগামী দুই বছর ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে থাকলে নিজের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘মিস্টার ভিটো’ হয়ে উঠবেন এবং তাঁর কাছে পাঠানো আইনগুলিতে ভেটো প্রয়োগ করবেন।