রাজ্যের বিভিন্ন হিমঘরে এখনও বিপুল পরিমাণ আলু মজুত থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে চাষি ও ব্যবসায়ীদের। ৩১ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, হিমঘরগুলিতে প্রায় ৫ কোটি ২৩ লক্ষ ৭ হাজার প্যাকেট আলু অবিক্রীত অবস্থায় রয়েছে। ডিসেম্বরের পর সাধারণত হিমঘরে আলু রাখা সম্ভব হয় না। ফলে হাতে সময় খুব কম থাকায় এত বিপুল পরিমাণ আলু কীভাবে বিক্রি হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।

তথ্য অনুযায়ী, গত মরশুমে রাজ্যে মোট ১৬ কোটি ১ লক্ষ ৮ হাজার ২৭৮ প্যাকেট আলু হিমঘরে মজুত করা হয়েছিল। তার মধ্যে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বের করা হয়েছে ১০ কোটি ৭৮ লক্ষ ৯১১ প্যাকেট। এখনও পড়ে রয়েছে ৫ কোটিরও বেশি প্যাকেট।

চাষিদের বক্তব্য, খুব বেশি হলে ডিসেম্বর পর্যন্ত হিমঘরে আলু রাখা যায়। তার মধ্যে এত বিপুল পরিমাণ আলু বিক্রি করা কার্যত অসম্ভব। যদিও নভেম্বর মাসে বীজ আলু বের করা হবে। ফলে চলতি মাসে হিমঘর থেকে আলু বেরোনোর পরিমাণ কিছুটা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশের আলু চাষিরাও এবার ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সেই কারণে ওই রাজ্যে এ বছর জলদি জাতের আলুর চাষ তুলনামূলক কম হয়েছে। এতে কিছুটা আশার আলো দেখছেন এ রাজ্যের চাষিরা।

সাধারণত নতুন আলু বাজারে এলে ক্রেতাদের ঝোঁক সেদিকেই বেশি থাকে। ফলে পুরনো আলুর চাহিদা কমে যায়। তবে উত্তরপ্রদেশে চাষ কম হওয়ায় নতুন আলুর দাম বেশি থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে পুরনো আলুর চাহিদা কিছুটা বজায় থাকার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে।

তবে এই পরিস্থিতিতেও চাষিদের উদ্বেগ কাটছে না। আলুচাষি বাবু দাসের অভিযোগ, এ বছর সারের দাম অনেকটাই বেড়েছে। সরকার বারবার ট্যাগিং বন্ধের হুঁশিয়ারি দিলেও বাস্তবে তার কোনও সুফল মিলছে না।

উল্টে অতিরিক্ত দাম দিয়ে অনুখাদ্য-সহ সার কিনতে হচ্ছে চাষিদের। ফলে আলু চাষের খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাষ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তার উপর বিপুল পরিমাণ আলু এখনও বিক্রি না হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।

চাষিদের দাবি, পুজোর আগে ফ্রি ব্র্যান্ডের আলুর দাম অনেকটাই কমে গিয়েছিল। বর্তমানে দাম কিছুটা বাড়লেও তাতে লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে না। তাঁদের আশঙ্কা, ডিসেম্বরের পরও বহু আলু হিমঘরে পড়ে থাকবে। পরের মরশুমের আলু মজুত করার আগে হিমঘরগুলিতে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে হয়। তাই পুরনো আলু আর সেখানে রাখা সম্ভব হবে না। শেষ পর্যন্ত অবিক্রীত আলু নষ্ট করা ছাড়া উপায় থাকবে না বলেই আশঙ্কা করছেন চাষিরা।