পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তরে বড়সড় নিয়োগের ঘোষণা করল সরকার। প্রায় ৭ হাজার ১৯০টি শূন্যপদ পূরণ করা হবে এবং আগামী বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হবে। নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে নতুন নিয়ম চালু করা হবে বলে জানা গিয়েছে। দীপাবলির পরই এই বিষয়ে বিশেষ অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

স্থায়ী নিয়োগের পাশাপাশি আরও ১ হাজার কর্মী অস্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হবে। অন্যদিকে, পঞ্চায়েত দপ্তরের জন্য নিউটাউনে নতুন বিধানসভার প্রস্তাবিত জমির পাশেই ৫ একর জায়গা জুড়ে একটি নতুন ভবন তৈরি হবে।
বুধবার পঞ্চায়েত ভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ রিভিউ বৈঠক হয়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল-সহ রাজ্যের সমস্ত বিডিও ও ডিএমরা। মূলত ১২৫ দিনের কাজ এবং প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনার অগ্রগতি খতিয়ে দেখতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল।

বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নতুন নিয়োগ এবং পঞ্চায়েত ভবন সংক্রান্ত এই ঘোষণাগুলি করেন। তিনি ১২৫ দিনের কাজের অগ্রগতি নিয়ে জানান, রাজ্যে বর্তমানে দিনে ২২ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পে কাজ পাচ্ছেন। এই প্রকল্পের জন্য মোট ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮ হাজার কোটি টাকা দেবে কেন্দ্র এবং ৫ হাজার কোটি টাকা দেবে রাজ্য। ইতিমধ্যে কেন্দ্র প্রথম ধাপে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন করে ১০ লক্ষ জব কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত ৬৫ লক্ষ ৬২ হাজার কর্মদিবস তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
পাশাপাশি বিগত সরকারের দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আধারের সঙ্গে কেওয়াইসি সংযুক্ত করতে গিয়ে ৩১ লক্ষ ভুয়ো জব কার্ড বাতিল করা হয়েছে, যাদের মাধ্যমে টাকা তোলা হচ্ছিল। রাজ্যে এখন ডবল ইঞ্জিনের সরকার চলছে উল্লেখ করে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে গ্রামের সার্বিক পরিকাঠামোয় ব্যাপক বদল আনা হবে।