পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার বিখ্যাত ‘শ্রোডিঞ্জারের বিড়াল’ তত্ত্বের মতো একই সঙ্গে দু’টি সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী সত্য বিদ্যমান থাকতে পারে কি না—বিহারের অপরাধ পরিসংখ্যান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ঠিক এমনই এক বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে বসলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। রাজধানী দিল্লিতে 'ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়া' আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বিহারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের এখানে কোনো ‘অপরাধ’ নেই। অপরাধের ধারণাটাই শেষ হয়ে গেছে। ‘ক্রাইম’ হতে পারে, কিন্তু ‘অপরাধ’ নেই, কোনো অপরাধীও নেই।
"বিজেপি শাসিত বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে ‘ক্রাইম’ ও ‘অপরাধ’-এর এই অভিনব তফাৎ শুনে হতবাক রাজনৈতিক মহল। ‘অপরাধ’ আর ‘ক্রাইম’ তো একই বিষয়ের হিন্দি ও ইংরেজি রূপান্তর—তবে মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে এদের আলাদা করলেন, তা ভেবে কূল পাচ্ছেন না বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা।
বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা আরজেডি শীর্ষনেতা তেজস্বী যাদব মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ শেয়ার করে তীব্র কটাক্ষ শানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমলা ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশ্য করে তেজস্বী প্রশ্ন তোলেন, এই ধরণের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধীনে কাজ করতে গিয়ে আধিকারিকরা নিজেদের “সম্মানিত বোধ করছেন, না কি অপমানিত বোধ করছেন?” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও নিশানায় এনে তেজস্বী প্রশ্ন করেন, প্রধানমন্ত্রী কি সম্রাট চৌধুরীকে দিয়ে পুরো বিহার রাজ্যটাকে ধ্বংস করার ‘ঠিকাদারি’ বা চুক্তি দিয়ে রেখেছেন? নিজের পোস্টে তেজস্বী অভিযোগ তোলেন যে, সম্রাট চৌধুরীর বিরুদ্ধে অতীতে সাতটি খুনসহ একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।
কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র পবন খেরা মুখ্যমন্ত্রীর কথাকেই অন্য আঙ্গিকে ঘুরিয়ে তীব্র ব্যঙ্গ করেছেন। এক্স-এ দেওয়া একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে তিনি লেখেন, "Poverty হতে পারে, কিন্তু ‘গরিবী’ নেই!" অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রীর এই হাস্যকর শব্দ চয়ন ও যুক্তি কতটা অসার, তা তিনি একই রকম একটি মন্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরেন।