উত্তরবঙ্গের নির্বাচনী সভা থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র সুর চড়ালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে ঢাল করে কেন্দ্রীয় বাহিনী, ইডি, সিবিআই এবং এনআইএ-কে ব্যবহার করে বাংলায় পরিকল্পিতভাবে ‘অত্যাচার’ চালানো হচ্ছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার বদলে ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। রাজ্যবাসীর উদ্দেশে তাঁর সরাসরি বার্তা, বিজেপির এই ‘অত্যাচার ও চক্রান্তের’ জবাব দিতে হবে ভোটের মাধ্যমে।

মমতা বলেন, বাংলাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার জন্য নানা রকম কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধীদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বাংলার মানুষ এর জবাব দেবে বলেই তাঁর বিশ্বাস। সভামঞ্চ থেকে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “৪ মে ফল ঘোষণার পর বিজেপির মুখোশ খুলে যাবে। বাংলা দখলের স্বপ্ন দেখছে তারা, কিন্তু বাংলার মানুষ তাদের যোগ্য জবাব দেবে।”

তৃণমূল নেত্রী আরও অভিযোগ করেন, ডিলিমিটেশন ও এনআরসি-র মতো ইস্যুকে সামনে এনে বাংলার মানুষের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে কেন্দ্র।

মহিলা সংরক্ষণ বিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তাঁদের দল নারী সংরক্ষণের পক্ষে, কিন্তু এর সঙ্গে আসন পুনর্বিন্যাস জুড়ে দিয়ে নতুন রাজনৈতিক ফাঁদ তৈরি করা হচ্ছে।

চাকরি ও উন্নয়ন নিয়েও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র বছরে দুই কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষ কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত। চা বাগান থেকে শ্রমিক কল্যাণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই কেন্দ্র ব্যর্থ বলে দাবি করেন তিনি।

সভা শেষে তাঁর আহ্বান ছিল স্পষ্ট—ভয় না পেয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে বিজেপির ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ রুখে দিতে হবে। তাঁর কথায়, “বাংলা মাথা নোয়াবে না, লড়াই করেই জিতবে।”