আরও পড়ুন:
নতুন সরকার গঠনের পরই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল মণিপুর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজ্যের চুড়াচাঁদপুর ও তুইবুং এলাকায় নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ ও কড়া ব্যবস্থা নিতে হয়। একাধিক জায়গায় পথ অবরোধ, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের গাড়ি ও সরকারি ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন:
বুধবার মণিপুরের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ইউমনাম খেমচাঁদ সিং শপথ নেন।
তাঁর সঙ্গে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নেমচা কিপগেন, যিনি কুকি-জ়ো জনজাতির নেত্রী। এছাড়াও কুকি-জ়ো সম্প্রদায়ের আরও দুই বিধায়ক নতুন মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই কুকি অধ্যুষিত এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।আরও পড়ুন:
কুকি-জ়ো জনজাতির নেতারা অভিযোগ করেন, সরকারে যোগ দিয়ে তাঁদের সম্প্রদায়ের বিধায়করা নিজেদের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এর প্রতিবাদে সামাজিক বয়কটের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি কুকি অধ্যুষিত এলাকায় বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
এই বন্ধ ঘিরেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ।আরও পড়ুন:
প্রতিবাদ চলাকালীন পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে, সরকারি সম্পত্তিতে আগুন লাগানো হয় এবং রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়। পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে দু’জন বিক্ষোভকারীর আত্মদাহের চেষ্টা ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।
সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ ও পাথর ছোড়ার একাধিক ভিডিও। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় চুড়াচাঁদপুর জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এদিকে, শুক্রবার চুড়াচাঁদপুরে পূর্ণ বন্ধ ও প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে কুকি ছাত্র সংগঠন। নতুন করে যাতে অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য প্রশাসনের তরফে এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, টানা এক বছর রাষ্ট্রপতি শাসনের পর মঙ্গলবার মণিপুরে তা প্রত্যাহার করা হয়। তার ঠিক পরের দিনই নতুন সরকার গঠন হলেও, সেই আনন্দের আবহ দ্রুতই ঢেকে গেল অশান্তির কালো মেঘে।