আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তান। সৌদির রাজধানী রিয়াদ-এ ইসলামি দেশগুলোর এক সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রথমবারের মতো দেশগুলো নিজেদের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা একীভূত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করে।
সূত্র মতে, তুরস্ক গত বছর থেকেই পাকিস্তান ও সৌদি আরব-এর সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির উদ্যোগ নিচ্ছিল। পরে এই প্রক্রিয়ায় মিসর-কেও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। আলোচনায় উঠে এসেছে, এই উদ্যোগটি ন্যাটোর মতো বাধ্যতামূলক সামরিক জোট না হয়ে বরং একটি ‘নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে কাজ করবে, যেখানে প্রতিরক্ষাশিল্প ও কৌশলগত সহযোগিতা গুরুত্ব পাবে।


তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বৈঠক প্রসঙ্গে বলেন, “এই অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশগুলো কীভাবে নিজেদের শক্তি একত্রিত করে সমস্যার সমাধান করতে পারে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক সমস্যার সমাধানে বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা জরুরি।
বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিও এই আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ইরান-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরানের পাল্টা আক্রমণের প্রেক্ষাপট এই বৈঠকে উঠে আসে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ কতটা কার্যকর হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

হাকান ফিদান বলেন, “আমাদের একে অপরকে বিশ্বাস করতে শিখতে হবে এবং নির্দিষ্ট ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই চার দেশের সম্ভাব্য সহযোগিতা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তুরস্ক ইতোমধ্যেই উন্নত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে এগিয়ে, পাকিস্তানের রয়েছে পারমাণবিক সক্ষমতা, সৌদি আরব প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, আর মিসর জনবল ও সামরিক শক্তির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান-এর কায়রো সফরে তুরস্ক ও মিসরের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে একটি দ্বিপাক্ষিক সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি তুর্কি প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘মেকানিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন’ মিসরের সঙ্গে প্রায় ৩৫ কোটি ডলারের একটি রপ্তানি চুক্তিও করে।