পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: সিনেমার দৃশ্য বললেও অত্যুক্তি হবে না! একেবারে বলিউড কায়দায় হাসপাতালে ঢুকে এক চিকিৎসাধীন আসামীকে খুন করল একদল দুষ্কৃতি। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে পাটনার একটি হাসপাতালে। শ্বাসরুদ্ধকর  এই খুনের দৃশ্যটি ধরা পড়েছে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজের।

তাতে দেখা যাচ্ছে, বন্দুকহাতে একদল দুষ্কৃতি হাসপাতালের ভিতরে ঢুকছে। এরপর হাসপাতালে ভর্তি চন্দন মিশ্র নামে এক ব্যক্তির কেবিনে ঢুকে পড়ে তারা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অতর্কিত গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় চন্দনের দেহ। ঠিক যেন গ্যাংস অফ ওয়াসেপুর সিনেমার বাস্তবচিত্র।

২০১২ সালে নির্মিত এই সিনেমাটি বিহারের রাজনৈতিক, ক্রাইম কিছু সিনকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছিল। সেখানেও ঠিক এহেন দৃশ্যের স্বাক্ষী থেকে ছিল সিনেমামোদীরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত আসামী চন্দন মিশ্র একাধিক খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত। খুনের মামলায় বক্সার জেলে বন্দি ছিল সে। সেখান থেকে ভাগলপুর জেলে পাঠানো হয়েছিল তাকে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কয়েকদিন আগে প্যারোলে ছাড়া পায় সে। এরপরই পারস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই পাঁচ দুষ্কৃতী ঢুকে গুলি করে খুন করে তাকে।

 তারপর বিনা বাধায় পালিয়ে যায় তারা। চন্দনের বিরুদ্ধে অপহরণ, তোলাবাজি সহ একাধিক মামলা রয়েছে। বক্সারের কেসরী নামে এক রং ব্যবসায়ীকে খুনের মামলা চলছিল তার বিরুদ্ধে। সেই মামলায় জেলবন্দি ছিল সে।

পাটনার পুলিশ সুপার কার্তিক কে শর্মা জানিয়েছেন, চন্দন কুখ্যাত অপরাধী ছিল। এটি গ্যাংওয়ারের বিষয়। হামলাকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশের সন্দেহ চন্দনের বিরোধী গ্যাং এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।

এদিকে হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে গুলি চালিয়ে খুনের ঘটনায় সরব হয়েছে বিরোধীরা। নীতিশ সরকারকে কড়া সুরে আক্রমণ শানিয়ে তারা বলেন, দিবালোকে হাসপাতালে ঢুকে একজন রোগীকে খুন করে পালাল একদল দুষ্কৃতি। অথচ কোনও নিরাপত্তাই নেই। যোগীর পর নীতিশের রাজ্য দুষ্কৃতিদের জন্য স্বর্গে পরিণত হয়েছে। এদিকে গুলি চালিয়ে এক রোগীকে খুন করে নির্বিঘ্নে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় হাসপাতালের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।  হাসপাতালে ঢুকে গুলি চালানোর ঘটনায় তেজস্বী যাদব সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজ্য সরকারকে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘বিহারের কোথাও কি কেউ নিরাপদ?’। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।