জয়পুর, ২১ নভেম্বর: গোবলয়ে রাজনীতির বরাবরই সেন্ট্রাল ফিগার গরু। যদিও ছাড়া গরুর গুঁতোয় বেহাল অবস্থা রাজস্থান মধ্যপ্রদেশ সহ গোবলয়ের রাজ্যগুলির। ছাড়া গরুর অত্যাচারে দিশেহারা কৃষকরা। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কে? গরুর বিরুদ্ধে এখানে কেউ আঙ্গুল পর্যন্ত তুলতে পারে না। তারা দিনের পর দিন ফসল নষ্ট করেছে। তারপর সহ্য করতে হচ্ছে কৃষকদের। স্বঘোষিত 'খুনে' গোরক্ষদের দাপটে এখানে গরু ব্যবসা প্রায় বন্ধ।
ফলে বাড়ছে গরুর সংখ্যা। সব গরু দুধ দেয় না। তাদের মধ্যে বহু ষাঁড় রয়েছে। তারা সবাই জমিও চষে না। ফলে এই গরুগুলি কৃষকদের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ তাদের যে বিক্রি করবে সে জো নেই। তাহলেই তেড়ে আসবে স্বঘোষিত গোরক্ষরা। এমন অবস্থায় এই ধরণের গরুগুলিকে ছেড়ে দেন কৃষকরা। সরকার দাবি করে যে তাদের যথেষ্ট সংখ্যক গোশালা রয়েছে।গোশালগুলিতে যথেষ্ট পশু খাবার নেই। এই অভিযোগ প্রমান হয়েছে একাধিকবার।আরও পড়ুন:
২০১৪ এর পর থেকে গোবলয়ের রাজনীতিতে এই গো ইস্যু সফল হয়েছে। ফলে রাজস্থানে গরু ইস্যু হাতছাড়া করতে চাইছে না বিজেপি কংগ্রেস দুই দলই। মঙ্গলবার জয়পুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের উপস্থিতিতে ইস্তাহার প্রকাশ করা হয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে , রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট, কংগ্রেস রাজস্থানের ইনচার্জ সুখজিন্দর সিং রন্ধাওয়া এবং কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসার উপস্থিতিতে ইস্তেহার প্রকাশ করল হাত শিবির।
আরও পড়ুন:
ইস্তেহারে বলা হয়েছে রাজস্থানে কংগ্রেস ক্ষমতায় টিকে গেলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দু’টাকা কেজি দরে গোবর কিনবে সরকার।
ইস্তাহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে দল আরও ঘোষণা করেছে, কৃষকদের দু লক্ষ টাকা করে বিনা সুদে কৃষিঋণ দেবে কংগ্রেস সরকার। এছাড়া, ৫০০ টাকার সিলিন্ডার প্রাপকের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে। কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় থেকে গেলে মহিলাদের বছরে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে, একথা আগেই ঘোষণা করেছেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট।আরও পড়ুন:
উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের সরকার বছর কয়েক আগে এই ধরনের প্রকল্প দেশে প্রথম চালু করে। সরকারি ও বেসরকারি গোবর গ্যাস প্ল্যান্ট এবং জৈব সার তৈরির প্ল্যান্টে সরবরাহ করা হয় গোবর। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের দাবি, বিপুল কর্মস্থান হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। প্রতিটি পঞ্চায়েতে তৈরি হবে গোবর গ্রহণ কেন্দ্র। গো-পালকেরা দুধ সরবরাহের সময় গোবরও দিয়ে যাবেন।