পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: ফের মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাত। বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রে আটটি মসজিদের লাউডস্পিকার খুলে ফেলা হল। দীর্ঘদিন রাজ্যটিতে মসজিদে লাউডস্পিকারের ব্যবহার নিয়ে চলছে রাষ্ট্রীয় দমন নিপীড়ন। তার মধ্যে নতুন করে ফের লাউডস্পিকার সরিয়ে সরিয়ে দিল ফড়ণবীশ সরকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ কোনও আগাম সতর্কতা জারি করেনি না করেই তা খুলে ফেলেছে। এমনকি শব্দ পরীক্ষাও করা হয়নি।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
<span;>উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি বম্বে হাইকোর্ট একটি আদেশ জারি করে জানায়, লাউডস্পিকারের ব্যবহার কোনও ধর্মের অপরিহার্য অঙ্গ নয়। মহারাষ্ট্র পুলিশকে প্রাসঙ্গিক শব্দ দূষণ বিধিমালা মেনে চলা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়। বিচারপতি এ এস গডকরি এবং বিচারপতি এসসি চন্দকের বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে নির্দেশ দিতে বলে।
আরও পড়ুন:
বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ মে মুম্বই পুলিশ একটি নোটিশ জারি করে সমস্ত ধর্মীয় স্থানকে লাউডস্পিকার খুলে ফেলার নির্দেশ দেয়।
আদেশে বলা হয়, "লাউডস্পিকার ইনস্টল করতে আগ্রহী যে কোনও স্টেকহোল্ডারকে সম্পত্তি কার্ড, বৈধ নির্মাণ প্রমাণ এবং ওয়াকফ নিবন্ধকরণের কাগজপত্রের মতো নথি সরবরাহ করার পরে একটি লাইসেন্স নিতে হবে।" গত ২৫ জুন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার বিভিন্ন মুসলিম রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তিনি পুলিশকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার জন্য সতর্ক করেছিলেন এবং বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি কিরিট সোমাইয়াকে মসজিদে লাউডস্পিকার ব্যবহারের বিরুদ্ধে তার অপবাদ প্রচার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।আরও পড়ুন:
এনিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন এনসিপির রাজ্য সভাপতি নবাব মালিক, দলের নেতা জিশান সিদ্দিকী, সানা মালিক ও সৈয়দ জালালউদ্দিন, সমাজবাদী পার্টির রাজ্য সভাপতি আবু আসিম আজমি এবং অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) জাতীয় মুখপাত্র ওয়ারিস পাঠান। ছিলেন মহারাষ্ট্র পুলিশের ডিজিপি রশ্মি শুক্লা এবং মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনার দেবেন ভারতী। বৈঠক শেষে পাঠান জানান, বৈঠক চলাকালীন মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনার শহর জুড়ে ১৫০০ লাউডস্পিকার সরিয়ে ফেলেছেন বলে দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন:
মিম নেতা বলেন, "আমরা চাই মহারাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকুক। এত বছর ধরেই উপমহাদেশে আজান শোনা যাচ্ছে।
সমন্বয়বাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা ভারতের মূল বিষয়। শুধু লাউডস্পিকারে আজান দিতে সমস্যা হয় কেন?" সমাজবাদী পার্টির রাজ্য সভাপতি আবু আজমির বক্তব্য, "কিরিট সোমাইয়ার মতো একজন মুম্বইয়ে চাপ তৈরি করেছেন। তারা ভোট দেয়নি এমন পাড়ার থানা ও মসজিদে গিয়ে বলে, 'ভোট জিহাদ হয়ে গেছে'। এটা কি টার্গেটেড হ্যারানি নয়?" সপার প্রবীণ নেতা আবু আজমি বলেন, "অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে যখন মুসলিমরা মসজিদের বাইরে নমাজ পড়ে, তখন দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি হয়। আর গণেশ চতুর্থীর জন্য প্রতি বছর যখন রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন ক্ষোভ কোথায় যায়? মহারাষ্ট্রে কি সংবিধান প্রযোজ্য নয়? রাজ্য নিজেই যখন অন্যান্য উৎসবের ব্যবস্থা করে, তখন আজানকে কেন জনউপদ্রব বলা হয়।"