পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ২০২৬-এর রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় ওলটপালট। আম আদমি পার্টি (AAP) ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দিলেন রাজ্যসভার তিন দাপুটে সাংসদ— রাঘব চাড্ডা, অশোক মিতাল এবং সন্দীপ পাঠক। শুক্রবার দিল্লির বিজেপি সদর দপ্তরে দলের প্রধান নীতিন নবীনের হাত থেকে গেরুয়া পতাকা তুলে নেন তাঁরা।

রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির মোট ১০ জন সাংসদ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৭ জনই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিন রাঘব চাড্ডা সহ ৩ জন যোগ দিলেও, বাকি ৪ সাংসদ— প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল, রাজিন্দর গুপ্ত এবং বিক্রম সাহানি খুব শীঘ্রই পদ্ম শিবিরে নাম লেখাবেন বলে জানা গেছে। এর ফলে রাজ্যসভায় আপ-এর শক্তি কমে মাত্র ৩-এ দাঁড়াল (সঞ্জয় সিং, সন্ত বলবীর সিং সিচেওয়াল এবং এন.ডি. গুপ্ত)।

সংবিধান অনুযায়ী, কোনও দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একযোগে দলত্যাগ করলে তাঁদের সদস্যপদ বাতিল হয় না। আপ-এর ১০ জনের মধ্যে ৭ জন (দুই-তৃতীয়াংশের বেশি) সদস্য দল ছাড়ায় ‘দলত্যাগ বিরোধী আইন’ এক্ষেত্রে খাটবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। রাঘব চাড্ডা বলেন, "সংবিধান অনুযায়ী, দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ চাইলে অন্য দলের সঙ্গে মিশে যেতে পারেন।

আমরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র-সহ রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি.পি. রাধাকৃষ্ণণকে চিঠি দিয়ে আমাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছি।"

২০১২ সালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার নিয়ে তৈরি হওয়া দলের এই ভাঙন রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে রাঘব চাড্ডার এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কয়েক সপ্তাহ আগেই তাঁকে রাজ্যসভায় দলের উপ-নেতার পদ থেকে সরিয়ে অশোক মিতালকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিতালও চাড্ডার সঙ্গেই বিজেপিতে যোগ দিলেন। ৩৭ বছর বয়সী রাঘব চাড্ডা, যিনি ২০২২ সালে দেশের কনিষ্ঠতম সাংসদ হিসেবে নজর কেড়েছিলেন, তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘আপ’-এর আদর্শগত বিচ্যুতিই তাঁদের এই চরম সিদ্ধান্তের কারণ।